শরীফ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুয়েত থেকে: মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কুয়েত। এ দেশটিতে প্রবাসী শ্রমিকের চাহিদা ব্যাপক। দেশটির শ্রমবাজারে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশসহ আফ্রিকার অনেক দেশ। আর পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
করোনাকালে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪ লাখেরও বেশি শ্রমিককে কুয়েত ত্যাগ করতে হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বর্তমানে কুয়েতের শ্রম বাজারের চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে কর্মী নিয়োগ চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিক, ফ্যামিলি, ভিজিট ভিসাসহ সব প্রকার শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
করোনার আগে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কুয়েতে প্রবেশ করলেও সেটি ছিল নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ বিশেষ অনুমোদন ‘লামানা’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ভিসা পেতে হচ্ছে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে।
আর লামানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যে সব শর্ত পূরণ করতে হয় সেগুলোকে কুয়েতের স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো, এমনকি প্রাইভেট সেক্টরগুলোও অনেকটা বিড়ম্বনা মনে করে।
তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যেখানে একদিনে ভিসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সহজ পাওয়া যায় সেখানে বাংলাদেশিদের বেলায় ভিসার ‘লামানা’ (অনুমোদন) পেতে এক থেকে দেড় মাস বা কখনো বেশি সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। আবার অনেক দরখাস্ত অনুমোদন পায় না বরং ফেরত আসে।
এর ফলে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তারা খুব সহজেই শ্রমিক নিয়োগ করতে আকৃষ্ট হচ্ছে। আর এতে করে কুয়েতে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটি ভারতের হাতে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ শ্রমিকরা হারাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় শ্রমবাজার, আর দেশ হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোন প্রতিনিধি কুয়েত সফরে না আসার ফলে অথবা কুয়েত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ আমন্ত্রণ না করার ফলে এই সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে সমাধান হচ্ছে না।
উল্লেখ্য ২০০৬ সাল থেকে কুয়েতে বাংলাদেশীদের ফ্যামিলি ভিসা ভিজিট ভিসা বাণিজ্যিক ভিসা বন্ধ রয়েছে।