শরীফ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুয়েত থেকে: কুয়েতে কোনো বাংলাদেশি স্কুল নেই। এতে ছেলে-মেয়েরা ভিনদেশি স্কুলে লেখাপড়া করে বিদেশি ভাষায় আকৃষ্ট হচ্ছে। ভুলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার ইতিহাস-ঐতিহ্য। জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষ ৭০ দশক থেকে কুয়েতে প্রবেশ করতে শুরু করে। সময়ের ব্যবধানে এসব মানুষ নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে কুয়েতে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।
অনেকেই দেশটির কোনো কোনো কোম্পানির উচ্চ-পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার কুয়েত সরকারের মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করছেন।
এছাড়াও অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসা-বাণিজ্য করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দীর্ঘ তিনদশক অসংখ্য ছেলেমেয়ে দেশটিতে জন্মগ্রহণ করেছে। তারা বাংলা শিক্ষা বা বাংলা কারিকুলামে পড়তে পারছে না। কারণ এ দেশে কোনো বাংলাদেশি স্কুল নেই।
তাই তাদের সন্তানদের বাধ্য হয়ে ভারতীয়, পাকিস্তানি বা আমেরিকান অথবা ভিনদেশি স্কুলগুলোতে পড়তে হচ্ছে। এতে তাদের সহচর বা ক্লাসমেট ভিনদেশি হওয়ায় বাংলা ভাষার বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বাংলা সংস্কৃত ভুলে যাচ্ছে ।
কুয়েতে বাংলাদেশি স্কুল স্থাপন করা না-হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবস্থানরত অসংখ্য প্রবাসী শিক্ষার্থীরা নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাবে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশি স্কুল আছে। তাই কুয়েতেও বাংলাদেশি স্কুল স্থাপন করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আবেদন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা।
তারা মনে করেন, কুয়েত সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে সেখানে স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ সরকার। আর এতে করে সেখানে বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মসংস্থান হবে।