আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: এবার ইতালির রোম ফিউমিছিনু Fiumicino এয়ারপোর্ট থেকে নয়, কাতার দোহা এয়ারপোর্টে ইতালির ফ্লাইটে উঠতে দেয়নি বাংলাদেশ থেকে আগত ৪০ জন যাত্রীকে। কাতার দোহা ইয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হোল্ড করে দিয়েছে ইতালির নির্দিষ্ট ফ্লাইটে ওঠা থেকে।
দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে, ইতালির রোম ফিউমিছিনু এয়ারপোর্ট ও মিলান এয়ারপোর্ট থেকে জুলাই ২০২০ ঠিক একই ধরণের একটি ঘটনা ঘটেছিল। যে যাত্রীরা আজও বাংলাদেশে অনেক কষ্টে দিন-যাপন করছেন । তারা অপেক্ষায় আছেন কখন তাদের কার্যক্ষেত্র ইতালিতে ফেরত আসতে পারবে? উল্লেখ করা যেতে পারে তখন কিন্তু সেখানে যাত্রীদের একটি বড় রকম ভুল ছিল। ১২৫জন যাত্রী, তারা করোনা টেস্টের যে সার্টিফিকেট বাংলাদেশ থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলো সেটা ভুয়া ছিলো এবং তাদের অনেকের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল এয়ারপোর্টে। যার কারণে তখন এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন সেই ১২৫জন যাত্রীকে পুশব্যাক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এর অন্যতম কারণ ছিল ইতালিতে তখন করোনার প্রকোপ আস্তে আস্তে কমছিলো। আর তখন বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিলো। করোনা দাবিয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে তাই ইতালিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলো ইতালি সরকার ।
কাতার দোহা এয়ারপোর্টে যে ঘটনাটা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতালি আসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যে যাত্রীরা দোহা এয়ারপোর্ট গিয়েছে এবার তারা দোহা এয়ারপোর্টেই ইতালিতে আসার জন্য পরবর্তী ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় ছিলো। কিন্তু ট্রাজেডি আর দূর্ভাগ্য যেন তাদের পিছু ছাড়ছে না। বাধা হয়ে দাঁড়ালো দোহা এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন।

এই যাত্রীদের করোনা ভাইরাস জটিলতার কারণে ইতালিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যাদের স্টে পারমিট ভেলিড রয়েছে অর্থাৎ যাদের ইতালিতে থাকবার অনুমতি রয়েছে, তারা ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবে। সে মোতাবেক বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাত্রীরা কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে ইতালিতে প্রবেশ করতে চাইলে দোহা’এয়ারপোর্টে ৪০ জন ইতালি প্রবাসী কে ফ্লাইট ধরতে দেয়া হয়নি। কারণ হিসেবে জানা যায় যাত্রীদের কার্তা দি সৌজন্য না থাকায় তাদেরকে ফ্লাই করতে দেয়া হয়নি। (কার্তা দি সৌজন্যে হলো ইতালিতে থাকার জন্য লং টাইম অনুমতি পত্র) যদিও ইতালিয় সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে এই ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি নেই।
ঘটনাটি ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অবগত হলে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার বিষয়টি আমলে নেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত, ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অবস্থানরত ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং কাতারে অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাস এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তিনি আটকে দেয়া ইতালি প্রবাসীদের দোহা এয়ারপোর্টে ফ্লাই করতে দেয়ার অনুরোধ জানান।
ইতালি বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের বিশেষ অনুরোধে এখন পর্যন্ত তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়নি, যথাসম্ভব কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। প্রত্যাশা করা যাচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ ঐ সকল যাত্রীদের দ্রুত ইতালিতে আসবার জন্য ফ্লাই করার ব্যবস্থা করবে।