হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমানকে তাড়া করেছিলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। পরে ভার্জিনিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় সেসনা মডেলের ছোট ওই বিমানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ৫ জুন ২০২৩, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। শব্দের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে, এতে কেঁপে উঠে বহু ঘরবাড়ির জানালার কাঁচ। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হোয়াইট হাউসসহ আশপাশের এলাকায়। পরে জানা যায়, ওয়াশিংটনের ওপর দিয়ে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড শব্দেই ঘুম ভাঙে বাসিন্দাদের।
হোয়াইট হাউস সূত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সংরক্ষিত আকাশে একটি অজ্ঞাত বিমানকে উড়তে দেখা গেলে ওয়াশিংটনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে বারবার বার্তা পাঠানো হয়। জবাবে কোনো উত্তর আসেনি ‘সেসনা-৫৬০ সাইটেশন’ মডেলের ছোট যাত্রীবাহী ওই বিমান থেকে।
এর পরপরই প্রোটোকল মেনে বিমানটিকে ধাওয়া করে মার্কিন ফাইটার জেটগুলো। এক পর্যায়ে ভার্জিনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয় এটি। নিহত হন বিমানটিতে থাকা সব আরোহী। বিমানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা না গেলেও এ ধরনের বিমান ৭ থেকে ১২ জন যাত্রী বহনে সক্ষম।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যাত্রীবাহী ওই সেসনা বিমানটি ফ্লোরিডার মেলবোর্নের এনকোর মটরস নামে একটি সংস্থার মালিকানাধীন। সংস্থাটির মালিক জানান, বিমানটিতে তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। রোববার টেনেসির একটি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় এটি। গন্তব্য ছিল লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক। তবে অজ্ঞাত কারণে যাত্রাপথ বদলে ফেলতে বাধ্য হয় বিমানটি।
ঠিক কি কারণে এটি বিধ্বস্ত হলো সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে এটি অটো পাইলট মুডে চলার কারণেই ওয়াশিংটনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কোন সিগনাল শুনতে পায়নি বিমানটি।
ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসেই ছিলেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।