প্রবাস মেলা ডেস্ক: ভারতের ওড়িশায় দুর্ঘটনা কবলিত করমণ্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরা থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি যাত্রী। তারা চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাচ্ছিলেন। ওই ট্রেনে বাংলাদেশি আরও যাত্রী ছিলেন, তাদের খোঁজ চলছে।
জীবিত যারা উদ্ধার হয়েছেন তারা হলেন- মো: মিনহাজ উদ্দিন, মোছা: আজমিন আক্তার ও মো: হুমায়ুন কবির। সবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তারা চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাচ্ছিলেন।
জানা গেছে, করমণ্ডল এক্সপ্রেসে ১০ জনের বেশি বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন। আর হামসাফার এক্সপ্রেসে ছিলেন বেশ কয়েকজন। উড়িষ্যার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাত জন বাংলাদেশি যাত্রী।
করমণ্ডল ট্রেনে থাকা বাংলাদেশি যাত্রী ময়মনসিংহের মিনহাজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বহু কষ্টে রেলের কামরার কাঁচ ভেঙে বের হন তারা। বাইরে এসে দেখেন বীভৎস ধ্বংসযজ্ঞ আর মৃত লাশের সারি। পরে উদ্ধার কাজে হাত দেন। মৃতদেহের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেন হাসপাতালে।
ওই ট্রেনের শনাক্ত হওয়া প্রথম বাংলাদেশি যাত্রী মিনহাজ আরও জানান, ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের সঙ্গে উদ্ধারের কাজ করার পর তাকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মিনহাজ জানান, চেন্নাইয়ে চিকিৎসার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উদ্ধার ব্যক্তিরা জানান, বিদেশে চিকিৎসা করাতে এসে এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে তা কল্পনা করতে পারেননি তারা।
শুধু এই তিনজন নন, করমণ্ডল ও হামসাফার এক্সপ্রেস ছিলেন আরও বেশ কিছু বাংলাদেশি যাত্রী। তাদের খোঁজ এখনও পায়নি বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন।
ভারতের ওড়িশার বলেশ্বরে ভারতের ইতিহাসে ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭৫ জন নিহত এবং এক হাজার ১৭৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মধ্যে ৭৯৩ জনকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।