শফিক আলম মেহেদী:
আজকাল প্রায়শ এমন হয়
আমি আমার মাথা খুঁজে পাই না
মেরুদণ্ড, সে এখন দূর অতীতের স্মৃতি!
সতত প্রশ্ন জাগে, জন্মলগ্নে
আমি কি স্বাভাবিক মানব শিশু ছিলাম
নাকি মাথা ও মেরুদণ্ডহীন
সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী
ক্ষুধা ভিন্ন অন্য কোনো অনুভূতি
যাদের স্পর্শ করে না?
যদ্দূর মনে পড়ে
আমি মানুষ হয়েই জন্মেছিলাম
একদিন হিমালয়ের চূড়া
কাঞ্চনজঙ্ঘার সুউচ্চ শৃঙ্গ
অসীম আকাশ অতল সমুদ্রদেশ
এসব আমার নাগালের মধ্যে ছিল
আমি তখন মানুষ ছিলাম!
দারিদ্র্য দৈন্য বৈরী ভাগ্য
অথবা মধ্যবিত্তের দোদুল্যমানতা
আমার পিতা-মাতাকে
সম্ভ্রান্ত মানুষ করার কঠিন অঙ্গীকার থেকে
একচুল বিচ্যুত করতে পারেনি
তারা তাদের সন্তানের জন্য
পা-চাটা গোলামের
রাজসুখ নয়
উদয়াস্ত খেটে খাওয়া
শ্রমিক কৃষক অথবা ধীবরের
অবাধ উন্মুক্ত জীবন চেয়েছিলেন
হায় আমার দুর্ভাগ্য জনক-জননী
আমি আপনাদের যুগল স্বপ্নের
রূপকার হতে পারলাম না
আমার ব্যর্থতা ক্ষমা করবেন
অভিজ্ঞতায় জেনেছি যুগপৎ
মানুষের ভেতর বাস করে
একজন চক্ষুষ্মান মানুষ
এবং
একজন অন্ধ অচেতন ক্রীতদাস
একটি সাহসী সিংহ
এবং
একটি ভীরু অসহায় গাধা
আমরা যাকে
আধুনিক শিক্ষা উঁচু পেশা
অথবা সম্ভ্রান্ত জীবনযাপন বলি
তা মানুষের ভেতরের অন্তর্লীন মানুষকে
ক্রমান্বয়ে গ্রাস করে
গোপনে বেড়ে ওঠে ক্রীতদাস
একমাত্র ও প্রবল
এক সময় সিংহটি হেরে যায় গাধার কাছে
অবিশ্বাস্য অদ্ভুত নিয়মে
আমি এখন একজন
নিপুণ ক্রীতদাস উৎকৃষ্ট গাধা
সরল অর্থে সফল আমলা!
এখন আমার মাথা নেই
মেরুদণ্ড নেই
বুকে ভর করে চলা প্রাণীর মতো
দিনগত পাপক্ষয়ে টিকে আছি
মানুষের মতো বেঁচে নেই!
আমাকে দেখে এখন
পাখিরা মুখ ফেরায়
ফুল ঝরে পড়ে
নদী ভোলে উৎসমুখ
হায়রে জীবন
একটাই জীবন
তুই আমার হাতছাড়া হয়ে গেলি!
লেখক: সাবেক সচিব ও কবি