ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তেঁতুলের আচারের প্যাকেটে ৮ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়ার ঘটনায় লেবানন প্রবাসী ইমরান হোসেনকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় কাজী নোমান নামে এক ব্যক্তি ইমরানকে না জানিয়ে তার কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীদের দাবি, ইমরানকে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মাদক বহনে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইমরান হোসেন গত সাত-আট বছর ধরে লেবাননে কর্মরত বলে তার স্বজন ও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি চার মাসের ছুটি কাটিয়ে লেবাননে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে ইমরানকে ফোন করে কিছু সময় বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে চক্রের একজন প্রতিনিধি তার হাতে একটি তেঁতুলের আচারের প্যাকেট তুলে দেন। ইমরানকে জানানো হয়, প্যাকেটের ভেতরে শুধু আচার রয়েছে। তবে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় প্যাকেটটি স্ক্যানারে ধরা পড়ে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং ইমরানকে আটক করা হয় বলে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তায় কাজী নোমান নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, ইমরান এ ঘটনায় সম্পূর্ণ নির্দোষ। ভিডিওতে তিনি বলেন, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে বসবাস করছেন এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তাকে না জানিয়ে তেঁতুলের আচারের মধ্যে ইয়াবা গোপনে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ইমরানকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীদের অভিযোগ, মামুন, কাজী নোমানসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, কাজী নোমান লেবাননপ্রবাসীদের কাছে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিয়ে পড়ানো কাজী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
এদিকে ঘটনার পর লেবাননপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটির নেতারা। তারা অপরিচিত কিংবা পরিচিত কারও বন্ধ পার্সেল বা লাগেজ যাচাই ছাড়া বহন না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ প্রয়োজনে কারও মালামাল বহন করতে হলে ভ্রমণের কয়েক দিন আগে তা নিজের কাছে নিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা করে নিজ দায়িত্বে প্যাক করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীরা লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ইমরান হোসেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে করা দায় স্বীকারের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।