আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: প্রয়াত ইতালি প্রবাসী নুরুল হকের স্ত্রী রুবিনা আক্তারের কাছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর পক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি রুবিনা আক্তারের হাতে এ চেক তুলে দেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির সভাপতি অলিউদ্দিন শামীম। ইতালী প্রবাসী প্রয়াত নুরুল হক ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইতালীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ইতালীতে তার কাছের কোন আত্মীয় স্বজন না থাকায় দীর্ঘদিন তার মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে পরে থাকে। একপর্যায়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ এবং নুরুল হকের গ্রামের ইতালী প্রবাসী জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বকুল চক্রবর্তী জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর সভাপতি অলিউদ্দিন শামীমের সাথে যোগাযোগ করলে শামীম লাশ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য নুরুল হকের দেশের বাড়ি বৃহত্তর সিলেট মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলায়। তারপর জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর পক্ষ থেকে এসোসিয়েশনের নিজ খরচে লাশ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশে যোগাযোগ শুরু করেন সভাপতি শামীম। নুরুল হকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার লাশ গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানান শামীম। তারপর জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর পক্ষ থেকে ২ লক্ষ ৭০হাজার টাকা খরচ বহন করে লাশ দেশে পাঠানো হয়, সাথে দেশে লাশ দাফন সম্পন্ন করতে আরো ৩০ হাজার টাকা নগদ প্রেরণ করেন অলি উদ্দিন শামীম।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন সব সময় মানবিক কাজে এগিয়ে থাকে বিশেষ করে অলি উদ্দিন শামীম । তার প্রচেষ্টায় অনেক সামাজিক কাজ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য সর্ব মোট ৩ লক্ষ টাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির পক্ষ থেকে খরচ করে বাংলাদেশে মৃত নুরুল হকের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। তারপর, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির সভাপতি অলি উদ্দিন শামীম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বকুল চক্রবর্তীকে সাথে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান ইতালীর সোশ্যাল অফিসে কিভাবে মৃত ব্যক্তির ফ্যামিলিকে সহযোগিতা করা যায়। প্রবাসী প্রয়াত নুরুল হক কোথায় থাকতেন, কোথায় কাজ করতেন, কোন কিছুরই ঠিকানা ছিল না। মৃত ব্যক্তির ঠিকানা সব চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালেও অলি উদ্দিন শামিম এবং তার সহযোগীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অবশেষে সফলতা পায়।

নুরুল হক ইতালীতে বৈধ ভাবে বসবাস করতেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে, সাথে থাকা ছোট একটা ব্যাগের মধ্যে শুধু মাত্র তার আইডি কার্ড ও একটা ব্যাংক কার্ড ব্যতীত আর কিছু পাওয়া যায় নি। কিন্তু সভাপতি অলিউদ্দিন শামীম নাছোড়বান্দা উনি হাল ছাড়েনি একপর্যায়ে নুরুল হকের কর্মস্থলের ঠিকানা খুঁজে বের করেন এবং মালিক পক্ষকে বিস্তারিত জানান। তারপর দীর্ঘ আইনি লড়াই করে ৯ হাজার ২ শত ইউরো, বাংলাদেশি টাকায় যা ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, আদায় করতে সক্ষম হন। এটি অবশ্যই অসাধ্য কাজ ছিলো, কিন্তু জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অক্লান্ত পরিশ্রমে তা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এই টাকা থেকে জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালীর ৩ লক্ষ টাকা ও আইনজীবীর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ রেখে প্রায় ৫ লক্ষ ইউরো বেশী কিছু টাকা, মৃত্য নুরুল হকের স্ত্রী রুবিনা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করেন নিজ হাতে। শামীম এরপর শুরু করেন ব্যাংকের তালাশ, ব্যাংকে জমা টাকা আছে কি না? এবং ব্যাংকের কোন, শাখায় নুরুল হকের সঞ্চয়ী হিসাব, এইটা কিন্তু এত সহজ ছিল না, অনেক খোঁজাখুঁজির পর ব্যাংক নির্ণয় করতে সক্ষম হন। লিতারপর জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির নিজ খরচে চলে আইনি লড়াই। এজন্য সভাপতি শামীমকে ৩ বার ঢাকা সফর করতে হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যবস্থা করতে। কিন্তু এত কিছুর পরও ব্যাংক কতৃপক্ষ সকল সঠিক কাগজপত্র দেওয়া স্বত্বেও জমা কৃত টাকা আছে কি না তা জানাতে বা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য ৩ জন আইনজীবী পরির্বতন ও ইতালির ৩ টি আদালত পরির্বতন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছরের অধিক সময় আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ব্যাংক টাকা দিতে বা হিসেব দিতে বাধ্য হয়।
নুরুল হকের জমা কৃত ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে পাওয়া যায় ৪৩ হাজার ইউরো যা বাংলাদেশ টাকায় ৪৩ লক্ষ টাকার মতো। এর থেকে আইনজীবী ১৩ লক্ষ টাকা এবং জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির খরচ বাবত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা রেখে বাকি ২৫ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ইতালী প্রবাসী মৃত্য নুরুল হকের স্ত্রী রুবিনা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও প্রায় ৭ বছর পূর্বে একই রকম আরেক ইতালি প্রবাসী সিলেটের কানাইঘাট থানায় অধিবাসী ইতালিতে মৃত্যু বরন করেন। তখনও আইনি লড়াই চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা তার পরিবার, স্ত্রী,সন্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালির, মানবতার কল্যাণে কাজ করার । অভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য জালালাবাদ এসোসিয়েশনের মতো যদি প্রবাসী সংগঠনগুলো প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে অনেকেই উপকৃত হতো । অতীতের মতো আগামীতেও জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালি যেকোনো মানবিক কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে এর সভাপতি অলি উদ্দিন শামীম আশা ব্যক্ত করেন । তার বক্তব্য হলো, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইতালি সব সময় মানবতা ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। জালালাবাদ এসোসিয়েশন যদিও সিলেটিদের একটি সংগঠন, তারপরেও যে কোন জেলার, যেকোনো কারো (প্রবাসী) সমস্যায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন পাশে থাকবে ।