আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: নিজের যোগ্যতায় ইতালিয়ানদের মনে জায়গা করে নিয়েছে জর্জা মিলনি। তার এই অবস্থান একদিনে হয়নি রাজনীতির অঙ্গণে, নিজেকে পাকাপোক্তভাবে একজন মেধাবী রাজনৈতিক নেতা বানিয়েছেন, রাজনীতির মাঠে তার পদচারণা অনেক বছর থেকে। স্মার্ট ইন্টেলিজেন্ট, নিজেকে যোগ্য করেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রাতেল্লি ইতালিয়ায়। যার ফল ইতালির আগামীর ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রি সে কয়েক ঘন্টা বাকি মাত্র। এক সপ্তাহ আগেই ইতালিয়ানরা অনেকেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলো এবং কয়েকটি এজেন্সির জরিপে গত এক মাস থেকে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে ছিল জর্জা মেলোনি।
ইয়ং ভোটাররা তাকে তেমন ভোট দেননি তবে, বয়স্ক ভোটারদের ভোট পেয়েছে মেলনি। পাশাপাশি বিদেশিদের ভোট বামপন্থীদের পক্ষে পড়েছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে বামপন্থী দল সবসময় প্রবাসী বান্ধব এক্ষেত্রে মেলোনি তার উল্টো। তবে মেলোনির নির্বাচনী ইশতেয়াকে ছিল এই দেশে থাকতে হলে এই দেশের নিয়ম কানুন আইন শৃঙ্খলা মেনে নিয়ে থাকতে হবে যারা এ ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা আইন মেনে থেকে চলবে, তাদের বেলায় মেলোনির কোনরকম পদক্ষেপ থাকবে না। তবে অবৈধভাবে আসা অভিবাসীদেরকে ঠেকানো হবে। সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হবে যেসব পথে অবৈধ অভিবাসীরা ইতালিতে ডুকছে। ইতালিয়ানরা বামপন্থীদের উপর অনেক বিরক্ত তাদেরকে অনেকবারই সুযোগ দেয়া হয়েছে। বারবার সংসদ ভেঙে দেয়া বারবার ভোট দেয়া এটা অনেকদিন থেকেই ইতালিয়ানরা প্রত্যাখ্যান করছে।

এবছর ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য বারের তুলনায় কিছুটা বেশি। তারপরেও ইতালিয়ান ভোটারদের মনে রাজনৈতিক নেতারা তেমন একটি স্থান করে নিতে পারেনি। সাধারণ ভোটাররা প্রায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ইতালিয়ান ভোট কেন্দ্র থেকে। ফ্রাতেল্লি দি ইতালিয়া আস্তে আস্তে ইতালিয়ানদের মনে কিছুটা জায়গা করে নিতে পেরেছে। যার ফলস্বরূপ আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জর্জা মিলোনি। তাকে বেশিরভাগ ভোট দিয়েছে বয়স্ক ভোটাররা।
শুভকামনায় উচ্ছ্বসিত জর্জা মেলোনি তখন রাত প্রায় তিনটের কাছাকাছি ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় ইতালির হবু প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি। খুশিতে কৃতজ্ঞতায় নুয়ে দিয়েছেন তাঁকে ইতালিয়ানদের ভোটারদের কাছে। কৃতজ্ঞতায় ছল ছল করছে তার চেহারা। ডানপন্থী প্রবল জাতীয়তাবাদী দল ব্রাদার্স অব ইতালি’র (Fratelli Italya) যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা তিনি।
বিজয়ী হাতে ‘ধন্যবাদ ইতালি’ লেখা। ফলাফল ঘোষিত হবার পর রবিবার দিবাগত রাত ২.৩০ ইতালির রাজধানী রোমের পার্কো দেই প্রিন্সিপি (parco di principi) হোটেলের বলরুমে সশরীরে হাজির হন খোদ তিনি বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে।
দলের নেতাকর্মী সমর্থক সহ দেশবাসী সকলের কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিজয় উৎসর্গ করেন তাঁদের স্মরণে। যাঁদের সৌভাগ্য হয়নি আজকের মহাবিজয় দেখার পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে।

৪৫ বছর বয়সী জর্জা মেলোনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাস রচনা করেছি। আজকের রাত গর্বের, মুক্তির, চোখের জল, আলিঙ্গণ, স্বপ্ন এবং স্মৃতির। আপনারা নিরংকুশ আস্থা রেখেছেন আমার দলের উপর আমার উপর। আমরা কোনদিনই বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আমরা প্রস্তুত ইতালিকে পুনরুজ্জীবিত করতে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিভাজন নয়, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাবো আমরা।
অর্থবহ এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা কোন গন্তব্যে পৌঁছিনি এখনো, তবে লক্ষ্য অর্জনে আমাদের যাত্রা শুরু হবে আগামীকাল থেকে।
উল্লেখ থাকে যে, ১ সন্তানের জননী জর্জা মেলোনি হতে যাচ্ছেন ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি সের্জো মাত্তারেল্লা রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক কিছু ফরমালিটি সেরে নেবেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও তাকে শুভকামনা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিরোধীদল বামপন্থী পিডি মেনে নিয়েছে তাদের হেরে যাওয়াকে। অভিনন্দন জানিয়েছেন আগত প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনিকে।