আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালির রোম বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসী সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন রোম বাংলাদেশ দূতাবাস। ৬ এপ্রিল ২০২৩, বৃহস্পতিবার রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনফারেন্স হলরুমে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: শামীম আহসানের সঙ্গে আলোচনা করেন সাংবাদিকরা। আলোচনায় দূতাবাসের সেবার মান বৃদ্ধি, এনআইডি কার্ড, ই-পাসপোর্ট চালু, ওয়েজ আর্নাস বোর্ডের সদস্যপদ এবং মৌসুমি ভিসায় বৈধপথে ইতালিতে প্রবেশের যথাযথ নিয়ম মেনে চলাসহ নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আপনারা অবগত আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইতালি সরকারের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালি বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ। সুন্দর একটি সু-সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দীর্ঘ পথচলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে তারা আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে অবগত আছেন।
তিনি আরও বলেন, ইতালির মৌসুমি ভিসা সম্পর্কে সবারই জানার কথা। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর বাংলাদেশের কোটা বন্ধ রাখে ইতালি সরকার, যার জন্য দায়ী কিছু দালাল চক্র। এই চক্র এখনো সজাগ আছে বিঘ্ন ঘটতে পারে আবারো এর ধারাবাহিকতায়। সিজনাল ভিসা পাওয়ার পরে কিছু জরুরী নিয়ম কানুন মান্য করা বাধ্যতামূলক। এর অন্যথা হলে ইতালি সরকার বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারে। যেমন সিজনাল ভিসা পেয়ে যারা ইতালিতে আসে তারা কিন্তু লং টাইমের ভিসা পায় না। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে হতে যদি তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যায় এভাবে দুই তিন বার এসে ফিরে যাওয়ার পর স্থায়ীভাবে বসবাস করবার জন্য আবেদন করলে সে স্থায়ী বৈধতা পেতে পারে। এ কথাটির সাংবাদিকরা যেন খুব ভালোভাবে প্রচার করে, একটু সতর্ক করে দেয়- সাংবাদিকদের কাছে রাষ্ট্রদূত সে অনুরোধ জানান। অবশ্য তিনি এও বলেছেন, যেহেতু মানুষ এখানে আসতে ২/৩ ধাপ পার হতে হয় অর্থাৎ তাকে অনেক টাকা খরচ করে আসতে হয়। প্রত্যেকটি দেশেই তাদের কিছু কঠোর নিয়ম কানুন আছে যা দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী ইতালি সফরে এলে বিষয়টি ইতালি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার পর কূটনৈতিক তৎপরতায় পুণরায় মৌসুমি ভিসা চালু করে ইতালি। রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে ইতালি সরকারের ভিসা আইন কানুন আমাদের অবশ্যই মানতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত দু-বছর ধরে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ইতালিতে আসার সুযোগ পাচ্ছে। যদি নিয়ম মেনে চলে এ রাস্তা সব সময় খোলা থাকবে।
অন্যদিকে এ বছর প্রথমবারের মতো সিজনাল ভিসা কনভার্ট করার সুযোগ রয়েছে ইতালিতে। এছাড়া তিনি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দেন।

রোম দূতাবাস ২০২২ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেসব সেবা প্রদান করা হয়েছে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে পাসপোর্ট আবেদন ১৭ হাজার ৮২৭টি, পাসপোর্ট বিতরণ ১৭ হাজার ৭০৬, ভিসা ৯৮৫, এনভিএর (নো ভিসা রিকোয়ার্ড) ২ হাজার ১৫১, ট্রাভেল পারমিট ১৭০, বিভিন্ন সার্টিফিকেট ৭ হাজার ৭৬৪, ইতালির বিভিন্ন শহরে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা ৪ স্থানে দেয়া হয় যা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ নিবন্ধন ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রবাসীদের মরদেহ প্রেরণে বিমান ভাড়া প্রদান ৩৬ জনের, বাংলা শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভাগে সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ১৬ সংগঠন, বিভিন্ন স্কুলে বিতরণকৃত বাংলা পাঠ্যপুস্তক ৪৬৬, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীকে আর্থিক সহায়তা, ডিমান্ড লেটার সত্যায়ণ (সার্বিয়া কর্মী নিয়োগ) ইত্যাদি অনেক কার্যক্রমের বর্ণনা দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন একটি দূতাবাসের কার্যক্রম অনেক বড় ব্যাপার, অনেক চাপ থাকে কাজের। আমরা ইচ্ছা করলে সবকিছু করতে পারি না। দূতাবাস একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম কানুন মেনেই আমাদের কার্যক্রম চালাতে হয়। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের আন্তরিকতা একটুও কমতি নেই। আমরা যথাসাধ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা খুব আগ্রহ নিয়ে রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের মুখে প্রশ্নের জবাব শুনেন। রোমে অবস্থিত বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সুবিধা অসুবিধায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন।

পরিশেষে ইফতারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও নেক হায়াত চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সাংবাদিকদের নিয়ে দূতাবাসের যে উদ্যোগ এই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে সাংবাদিকরা মত প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান রোম বাংলাদেশ দূতাবাসকে সুন্দর এই আয়োজনের জন্য।
উল্লেখ্য উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রিন্ট, অনলাইন, ইলেকট্রনিক্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, দূতালয় প্রধান জসিম উদ্দিন, প্রথম সচিব সাইফুল ইসলাম (পাসপোর্ট), আসিফ আনাম সিদ্দিকী (শ্রমকল্যাণ), ইকোনমিক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, প্রথম সচিব আয়েশা বেগম ও দ্বিতীয় সচিব আশফাকুর রহমান (রাজনৈতিক) প্রমুখ।