প্রবাস মেলা ডেস্ক: পরিবেশে সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতি বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ইউরোপজুড়ে এই সূক্ষ্ম কণা জনিত বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর হার বার্ষিক ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও অদৃশ্য এই ঘাতক এখনো বছরে ইউরোপের তিন লাখ সাত হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। ১৫ নভেম্বর ২০২১, সোমবার ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা প্রতিবেদনের মাধ্যমে তথ্যটি জানিয়েছে।
পাঠানো প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইউরোপিয়ানভুক্ত দেশগুলো যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ বায়ু মানের নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করে তাহলে ২০১৯ সালে যে সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার অর্ধেকে নেমে আসবে। ২০১৮ সালে ইউরোপে বায়ুদূষণ জনিত কারণে নারী-শিশুসহ তিন লাখ ৪৬ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বায়ুদূষণ ডেটা সেন্টার জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়ার জন্য পরের বছর অর্থাৎ সম্প্রতি মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে বায়ুতে থাকা সূক্ষ্ম কণার ফলে ইউরোপের ২৭টি দেশের ১০ লাখের অধিক মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছিল। অতি সূক্ষ্ম এ কণা মানুষের ফুসফুসকে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২০১৯ সালে বায়ুতে সূক্ষ্ম কণা জনিত কারণে জার্মানিতে ৫৩ হাজার ৮০০, ইতালিতে ৪৯ হাজার ৯০০, ফ্রান্সে ২৯ হাজার ৮০০, স্পেনে ২৩ হাজার ৩০০, পোল্যান্ডে ৩৯ হাজার ৩০০ মানুষের অকাল প্রাণহানি ঘটে। সূক্ষ্ম কণা জনিত কারণ ছাড়াও অন্য দুইটি দূষণের ফলে লোকজনের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলেও ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থাটি জানায়।
মূলত গাড়ি, ট্রাক, থার্মাল পাওয়ার স্টেশন থেকে নিঃসরিত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের কারণেও ব্যাপক লোকের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এর কারণে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এমনকি ওজন স্তরের দূষণের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৯ সালে ১৩ শতাংশে নেমে আসে।
উল্লেখ্য, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বায়ুদূষণ একটি বড় ক্ষতির কারণ বলে দাবি সংস্থাটির। স্ট্রোক এবং হৃদরোগের কারণে অধিকাংশ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। আর ফুসফুসে ক্যান্সারের জন্য মূলত বায়ুদূষণ বিশেষ করে দায়ী। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ শিশুদের ফুসফুস বিকাশের ক্ষেত্রে ক্ষতি করে। তাছাড়া তাদের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও হাঁপানি রোগ বাড়াতে পারে। বায়ুদূষণের ফলে বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বায়ুদূষণ বিশ্বে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটায়। সাধারণত ধূমপান ও খারাপ খাদ্যের মতো একই মাত্রায় ক্ষতি করে এই বায়ুদূষণ। সূত্র: রয়টার্স