প্রবাস মেলা ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতার জেরে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ এসব দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তাঁর একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, এই সমাধানটি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সবার জন্যই অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।
তিনি আরও জানান, এই বোঝাপড়ার আলোকে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিনি প্রত্যাহার করছেন। তবে গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ বিষয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা সরাসরি আমাকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।
এর আগে দাভোসে ডব্লিউইএফ বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা উচিত। তবে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলে নিতে বলপ্রয়োগ করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হলেও ট্রাম্পের মতে, উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার ফলে সেখানে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। খনিজসম্পদসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
মূলত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে আর্কটিক অঞ্চলসহ গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। এ প্রেক্ষাপটেই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যদিও ডেনমার্ক নিজেই ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র।
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া সব পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ১ জুন থেকে শুল্কহার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার কথাও জানিয়েছিলেন।