আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধিঃ হাজার হাজার ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশে। নিজ দেশের মাটিতে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছে প্রায় তিন মাস থেকে। ইতালি থেকে রিটার্ন টিকেট কেটে গেলেও নিষেধাজ্ঞা বারবার বাড়ানো প্রেক্ষিতে অনেকেই নিজ দেশে অনেক দুঃখ কষ্টে আছে। ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে চলমান নিষেধাজ্ঞা আবারো বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এই দিকে এই প্রতিবেদক তাৎক্ষণিক বাংলাদেশে টেলিফোনে কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা যদি চলতি মাসের মধ্যে ইতালিতে আসতে না পারে, তা’হলে তাদের চাকরি চলে যাবে এবং সৌজন্যের মেয়াদ প্রায় উত্তীর্ণ হবে। এরকম অনেক ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছে, যাদের চাকরি এবং ফেরমেচ্ছ দি সৌজন্য হুমকির মুখে আছে। এমতাবস্থায় তারা চোখে মুখ পথ দেখছে না তারা ।
তাদের ভাষ্যমতে রোম ইতালি বাংলাদেশ দূতাবাসও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে অনুরোধ জানিয়েছে যাত্রীরা, আবারও যেন চেষ্টা করে দেখেন বাংলাদেশের ফ্লাইট চালু করাতে পারে কিনা ? ২৯ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও শ্রীলঙ্কার কোনো নাগরিক ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এর আগেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশেই নতুন করে করোনার ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। তাই ইতালির নাগরিকদের সুরক্ষায় ইতালি সরকার করোনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং ভারতের উপরে কড়া নজরদারি রেখেছে ইতালির সরকার । বর্তমান ইতালিতে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। শিথিল করা হয়েছে চলাফেরার বিধিনিষেধ। তবে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রীণ পাসকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবং কিছু নিয়মকানুন এখনো বলবৎ আছে, তারপরেও মানুষ অনেক স্বস্তিতে আছে ।

এদিকে রোম বাংলাদেশ দূতাবাসের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের ইতালিতে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তদুপরি বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা অনেকেই জানান, গত কয়েক মাস হয়ে গেল নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে ইতালিতে যেতে পারছে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, বসে বসে দোকান ভাড়া, বাসা ভাড়া জমা হচ্ছে। তারা যখন ইতালিতে আসবে, কিভাবে, কোথা থেকে এ জমাকৃত ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবে? এভাবে আর কয়েক মাস চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে, বাসা ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় থাকতে হবে । তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কারো কারো ছেলেমেয়ে এখানে লেখাপড়া করছে তারাও এক বছর পিছিয়ে গেল। এই প্রতিবেদকের সাথে আরও কয়েকজন ফোনে কথা হয়েছে এবং জানিয়েছে তাঁরা বাংলাদেশ সন্তান প্রসব করেছে। যদিও এই সন্তান গুলো ইতালিতে প্রসব হওয়ার কথা ছিল শুধুমাত্র ফ্লাইট বন্ধ হবার কারণে তারা বাংলাদেশে সন্তান প্রসব করেছে। এসব বাচ্চাকে ইতালিতে আনতে হলে অনেক কাঠ-খড় পোহাতে হবে । আল্লাহ ভালো জানে কবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে, এবং এসব প্রবাসীর ভাগ্যে কি আছে ? এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩০ আগস্টের আগে ইতালির সরকার এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় কিনা ?