প্রবাস মেলা ডেস্ক: ভয়াবহ দাবানল ছেয়ে ফেলেছে গ্রিসের মালিকানাধীন ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রোডস এবং কর্ফুকে। এরই মধ্যে দুটি দ্বীপে থাকা অধিকাংশ মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসুতাকিস। গ্রিসের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত রোডস। সাতদিন আগে দ্বীপটিতে দাবানলের শুরু হয়। সাতদিন পেরিয়ে গেলেও দাবানল থামার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। সপ্তাহব্যাপী এই দাবানলের কারণে দ্বীপটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। অবশ্য অধিকাংশই দ্বীপটিতে বেড়াতে আসা পর্যটক। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে রোডস থেকে১৯ হাজার লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের বাস এবং নৌকা যোগে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরেকটু দেরি করলে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। কারণ, দাবানল এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র আরও জানিয়েছে, রোডস ছাড়াও পশ্চিমা আয়োনিয়ান দ্বীপ হিসেবে পরিচিত কর্ফু থেকেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে। সরিয়ে নেয়া ২ হাজার ৪০০ লোকের মধ্যে পর্যটক এবং স্থানীয় অধিবাসীরাও রয়েছে। এছাড়া পেলোপোনেস অঞ্চলের ইভিয়া দ্বীপ থেকেও লোক সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এদিকে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসুতাকিস বলেছেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহ আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, আমরা একটি যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি।’
পুড়ে, ক্ষতি হওয়া অবকাঠামো আবারও নির্মাণ করা হবে উল্লেখ করে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে তা আমরা আবারও নির্মাণ করব। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের আমরা ক্ষতিপূরণ দেবো। জলবায়ু সংকট আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে এবং এটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মকভাবে তার প্রভাব বিস্তার করবে।’এ সময় গ্রিক প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আমাদের সামনে আরও অন্তত তিনটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। উল্লেখ্য, তিনদিন পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে থাকবে।