প্রবাস মেলা ডেস্ক: ৫ জুন ২০২৩, সোমবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন পাক্ষিক ‘প্রবাস মেলা’ অফিসে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খান। তার সাথে চা-চক্রে অংশ নিয়ে তার সংগীত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ‘প্রবাস মেলা’র কলাকুশলীরা।
আলোচনায় উঠে আসে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে তার ভাবনা, তার সংগীত জীবনের সংগ্রাম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা সহ নানা বিষয়। এসময় সঙ্গীতের এই তারকা শিল্পীর হাতে ‘প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।
উল্লেখ্য,মনির খান ১৯৭২ সালের ১ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো: মাহবুব আলী খান ছিলেন স্কুল শিক্ষক। মাতা মোছা: মনোয়ারা খাতুন একজন গৃহিণী। এক বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে মনির খান দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে প্রথম।

বাবার ঐকান্তিক অনুপ্রেরণা ও তার চেষ্টায় সংগীত জীবনে পা রাখেন মনির খান। তার বাবাই তাকে প্রথম হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন যাতে তিনি গান শিখতে পারেন। পরে তিনিই তার শিক্ষক ঠিক করে দেন গান শেখার জন্য।
গুণী এই শিল্পীর বাল্যকাল কেটেছে নিজ গ্রামেই। বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, ছোটাছুটি, পুকুরে সাঁতারকাটা আর মাছ ধরা সবমিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মনির খান। এত কিছুর মধ্যেও ছোট বেলা থেকেই তার গানের প্রতি একটা সহজাত আকর্ষণ ছিল। হাটে-ঘাটে, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলায় সব জায়গায় তিনি গান গাইতেন। স্কুল কলেজেও গান গেয়ে জিতে নিতেন ১ম পুরস্কার। গানের প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে একসময় তিনি ঢাকায় আসেন। অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে তিনি জনপ্রিয় সুরকার, গীতিকার এবং সঙ্গীত পরিচালক মিল্টন খন্দকারের সান্নিধ্যে লাভ করেন এবং তার অপরিসীম যত্নে গড়ে উঠেন আজকের জনপ্রিয় এই তারকা শিল্পী। ১৯৯৬ সালে বিউটি কর্নার থেকে তার ১২টি গানের প্রথম একক অ্যালবাম ‘তোমার কোন দোষ নেই’ বের হয়। অ্যালবামটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। অ্যালবামটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মনির খান রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। এরপর তার অসংখ্য একক ও দ্বৈত এ্যালবাম বের হয়।
মনির খান তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাচসাস পুরস্কার, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স অ্যাওয়ার্ডসহ দেশ ও বিদেশে আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।