মহিইল করিম আশিক, ইউএই, দুবাই প্রতিনিধি: স্বাধীনতার ৫২ বছরে পদার্পণের মহালগ্নে- “প্রবাসী কর্মীরা উন্নয়নের অংশীদার / সমুন্নত রাখবো তাদের অধিকার”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবিতে যথাযোগ্য উৎসাহ উদ্দীপনায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিমান বাংলাদেশ লিমিটেড ও জনতা ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
রেজাউল আলম, আইন সহকারী শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক পবিত্র কোরআন হতে তেলাওয়াত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর হাজরা সাব্বির হোসন শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পরেই উপসাগরীয় এই দেশটি সর্বপ্রথম সফর করেছিলেন ফলে উন্মুক্ত হয়েছিলো এদেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ। বঙ্গবন্ধুর সুদূর প্রসারী নেতৃত্বের কল্যানেই উপসাগরীয়দেশগুলোতে বাংলাদেশী অভিবাসীদের আগমন শুরু হয়েছিলো যার সুফল এখনো বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনায় বর্তমান সরকার অভিবাসন উন্নয়ন ও অভিবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মিনিস্টার শ্রম জনাব আব্দুল আউয়াল এর সঞ্চালনায় অতঃপর, দিবস উপলক্ষ্যে উপস্থিত প্রবাসীগণের সাথে মতবিনিময় করা সহ তাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত মান্যবর রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ তাৎক্ষনিক অনেক সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আলোকপাত করেন, একইসাথে সমস্যার সমাধানে করণীয় বিষয়ে উপদেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে, মান্যবর রাষ্ট্রদূত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীগণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
মানব্যর রাষ্ট্রদূত বলেন, আজকের এই দিবসের যে প্রতিপাদ্য এটি শুধু বাংলাদেশ নয় IOM এর সদস্য ১৯৩ দেশের অঙ্গীকার এটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যারা বসবাস করেন তারা এদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হন। আমাদের পরবর্তী জেনারেশনকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। মেধার সাথে সাথে দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এজন্য অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী সন্তানদেরকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয় সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিজ নিজ অবস্থান হতে স্বাধীনতার ৭০ বছরের মধ্যে উচ্চ আয়ের উন্নত সমৃদ্ধ দেশে তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।