আবুল কালাম আজাদ, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি: ২০১৬ সালের জুন মাসে সিডনির লাকাম্বায়, অস্ট্রেলিয়ায় সাবেক বাংলাদেশ হাই কমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনের সাথে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন মিডিয়া ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। একই ধরনের আরেকটি মতবিনিময় সভা ক্যানবেরায় আয়োজিত হয়, যেখানে সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তবে, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে অস্টেলিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন অফিস এবং সিডনিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেট অফিস থেকে সাংবাদিকদের বিশেষ কোন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কোন অনুষ্ঠানে। এসব অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও আওয়ামী সাংবাদিকরা দাওয়াত পেতেন। যার ফলে কমিউনিটি অন্যান্য নেতারা এবং সাংবাদিকরা বঞ্চিত থাকতেন। ক্যানবেরার হাই কমিশন অফিস থেকে বিভিন্ন সাংবাদিকদের শুধুমাত্র নিউজ প্রকাশের জন্য ইমেল পাঠানো হত যা বিভিন্ন সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রায়শঃ আওয়ামী দলীয় ব্যক্তিরাই উপস্থিত থাকতেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও সেগুলোর মধ্যে কমিউনিটির সঠিক প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
এছাড়া সিডনির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের অফিস সময়সূচি নির্ধারণ হওয়া উচিত ছিল সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত। তবে বাস্তবে কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা সকাল ৯:৩০ টা থেকে দুপুর ১২:৩০ টা এবং বিকাল ৩:০০ টা থেকে ৪:০০ টা পর্যন্ত অফিস করেন। মাঝে আড়াই ঘণ্টা বিরতি নিয়ে। এর ফলে অফিসে সার্ভিস প্রদান কার্যক্রম মাত্র চার ঘণ্টা চলত। যা অস্ট্রেলিয়ায় অন্যান্য অফিসের সময়সূচির তুলনায় খুবই অস্বাভাবিক। জানা যায় কিছু অফিস স্টাফ ক্যাজুয়েল জব ও টেক্সি চালক হিসাবেও কাজ করেন। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের সেবার মানের অন্যান্য বিষয়ে কমিউনিটিতে তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভিসা, এনভিআর, পাসপোর্ট নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এবং বাংলাদেশী নথিপত্রের প্রত্যায়নসহ অন্যান্য কনসুলেট সেবা গ্রহণযোগ্যতার সাথে প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।