ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: ১৭ই মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ০৭:০১ মিনিট দূতাবাস বিল্ডিং ছাদে জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এরপর দূতাবাস হল রুমে দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সভাপতিত্বে ও তৃতীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল সাফির সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন, বাণী পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, লেবানন আওয়ামীলীগ ও প্রবাসীদের সাথে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন চার্জ দ্যা এফেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পরে কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হোসেন এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনান যথাক্রমে আব্দুল্লাহ আল সাফি, আবুল হোসেন, জুবায়ের কবির তুষার এবং আরমান হোসেন।
সভায় সভাপতিত্বে দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, যার জন্ম না হলে লাল-সবুজের পতাকায় স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ পেতাম না। দেশ এমনি স্বাধীনতা লাভ করে নাই। বঙ্গবন্ধুর উপর অনেক জেল-জুলুম, অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস চীনে উৎপত্তি হয়ে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে লেবানন প্রায় ১২০ জনের অধিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। লেবানন সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে এবং স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধসহ অনেক এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট বাতিল করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে দেশে ফেরত যেতে ১৯ মার্চের ফ্লাইটও বাতিল করে দূতাবাস। এখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুততার সাথে সব কাজের অগ্রগতির আশ্বস্ত করেন তিনি। তার সাথে সকল প্রবাসীদেরকে লেবাননের আইন-শৃঙ্খলা মেনে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় থেকে সতর্কতার সহিত চলাফেরার আহবান জানিয়ে সকল প্রবাসীর সুস্থতা কামনা করেন।
অবশেষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।