প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীকে ভবিষ্যৎ সরকারের দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর ৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দ্রুত ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়েছে, সংস্কার ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন ব্যর্থ হতে পারে। প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো, ‘আফটার দ্য মুনসুন রেভল্যুশন: আ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’।
প্রতিবেদনে সমালোচকদের দমনে ব্যবহৃত আটকাদেশ ও আইন বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, জনপ্রশাসন, পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে র্যাব গঠিত হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকার র্যাবকে দায়মুক্তি দিয়ে অপকর্ম চালানোর সুযোগ দিয়েছে। র্যাবের একজন কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে জানান, গুম, হত্যা বা ক্রসফায়ারের মতো ঘটনাগুলো একটি আলাদা দল দ্বারা সংঘটিত হয়। আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালে র্যাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি হতবাক হন, যখন একজন প্রশিক্ষক দাবি করেন যে তিনি ১৬৯টি ক্রসফায়ার পরিচালনা করেছেন।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন সরকার র্যাবের সাতজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। র্যাব প্রধান এ কে এম শহীদুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে র্যাব বিলুপ্তি করা হবে।
এইচআরডব্লিউর জ্যেষ্ঠ গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেন, র্যাবকে সংস্কার করা সম্ভব নয়। তার মতে, যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, র্যাবকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়মুক্তি ও জবাবদিহির অভাব একটি বড় সমস্যা। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি (সিএটি) বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ বলে বর্ণনা করেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে নিরাপত্তা খাতে সংস্কারের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গুমের তদন্তে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং পুলিশ সংস্কারের জন্য আলাদা কমিশন কাজ করছে। এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো রাজনৈতিক প্রভাবে ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে। সেখান থেকে বের হয়ে আসা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে শেষে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ সরকার যাতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সহায়তা নেওয়া উচিত। এছাড়া, দাতাদেশগুলোর উচিত সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করা এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।