আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ১২ বছর বয়সে মায়ের সাথে ইতালিতে আসেন তাহমিদ তিসাদ ।বাবা এ কে এম সেলিম একজন ব্যবসায়ী। তিনি ইতালিতে আসেন ১৯৯৭ সালে। ইতালিয়ান স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করলে নিজের ইচ্ছায় এবং মা বাবার উৎসাহে আরো ভালো ফলাফল করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রবল ইচ্ছা জাগে তাহমিদ তিসাদ এর । সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৭ সালে পাদোভা শহরের পাদোভা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাশ করে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশি ছেলে তাহমিদ তিসাদ।
গত ১৮ মে ২০১৯ পাদোভা মেডিকো বিভাগের এম বি বি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদেরকে সম্মাননা ও শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীদেরকে শপথ বাক্য ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রধানরা। সেই অনুষ্ঠানে একমাত্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়ে শপথ ও সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তাহমিদ তিসাদ।
সে বর্তমানে ইতালিতে এফ সি ফি এস এর উপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাহমিদ তিসাদ এর বাবা পাদোভা শহরের প্রবাসী এ কে এম সেলিম ও তার মা শামীমা আক্তার ছেলের এই ফলাফলের জন্য খুবই আনন্দিত আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং গর্বিত বোধ করছেন তাহমিদের বাবা মা ছেলেকে নিয়ে ।

তাহমিদের বাবা আরো বলেন, আমার ছেলের জন্ম এই দেশে না। কিন্তু সে এই দেশে বড় হয়েও বিদেশিদের সাথে পাল্লা দিয়ে ভালো ফলাফল করেছে। তার এই ফলাফলের কারণে আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসীদের, বিদেশিদের কাছে মুখ উজ্জ্বল করেছে।
বরাবরই বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা ইতালির বিভিন্ন শহরে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি’তে খুবই ভালো রেজাল্ট করছে । যা ইতালির বাংলাদেশি মা বাবাদের জন্য অনেক সুখকর বিষয় । গত কয়েকবছরে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য লেখাপড়ার জন্য অনেক মা-বাবাই ইতালিয়ান পাসপোর্ট পেয়ে লন্ডনসহ ইউরোপের অনেক দেশে চলে গেছেন । তাহামিদ সহ আরো কয়েকজন এরই মধ্যে এম বি বি এস পাস করে ডাক্তার হয়েছে এবং স্পেশালিস্ট হবার জন্য এখানে আরও উচ্চতর লেখাপড়া করছে । তাহমিদের বাবা মোটেও মানতে রাজি নন যে, ইতালিতে লেখাপড়া ভালো না ।ইচ্ছা থাকলে সব জায়গাতেই লেখাপড়া ভালো করা যায় এটা মা বাবা এবং ছেলে মেয়ের উপর নির্ভর করে ।
পাদভা সহ ইতালির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙ্গালিদের চোখে মুখে এখন অনেক স্বপ্ন যে ইতালিতেও ছেলেমেয়েরা ইচ্ছা করলে ভালো করতে পারবে এবং পাস করে চাকরি পাবে । তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাহমিদের ছোট বোন তানজিনা । তাজনিন ২০১৮ সালে চক্ষু বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সে পড়াশুনা করছে।
তাদের দেশের বাড়ি ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার নবীপুর গ্রামে। তাহমিদ তিসাদের এই ফলাফলে ইতালিতে বেড়ে উঠা এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা ও অভিবাবকরা আরো উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছেন অনেক প্রবাসী ইতালি বাংলাদেশিরা । এভাবেই এগিয়ে যাক প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।