প্রবাস মেলা ডেস্ক: না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলী হোসেন (৮১)। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার বাংলাদেশ সময় আনুমানিক ভোর ৫টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন আলী হোসেনের দীর্ঘদিনের সহকারী নাদিম আহমেদ।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার আলী হোসেন আর আমাদের মাঝে নেই। কিছুক্ষণ আগে তিনি এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করে মহান স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পিত করার অনন্ত যাত্রায় শরিক হয়েছেন। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।’
আলী হোসেনের স্ত্রী সালেহা খাতুন। একমাত্র ছেলে আসিফ হোসেন আমেরিকায় থাকেন। মৃত্যুর আগে তিনি ছেলের কাছেই ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আলী হোসেনকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন।
কালজয়ী বহু বাংলা গানের স্রষ্টা আলী হোসেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর তালিকায় আছে- ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান যেন ভুলে যেও না’, ‘আরে ও প্রাণের রাজা তুমি যে আমার’, ‘এ আকাশকে সাক্ষী রেখে এ বাতাসকে সাক্ষী রেখে’, ‘ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে নিজেরে যে ভুলে যায় তুলনা খুঁজে না পায়’, ‘কে তুমি এলে গো আমার এ জীবনে’ ইত্যাদি।
আলী হোসেন জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ কুমিল্লায়। বাবার চাকরির সুবাদে পাকিস্তানের করাচিতে পড়াশোনা করেছেন তিনি। সেখানেই এক সময় নজরুল একাডেমিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার চাকরি হয়। চাকরির সুবাদে একই প্রতিষ্ঠানের উচ্চাঙ্গসংগীতের শিক্ষক পিয়ারে খানের কাছেও গান শিখেছেন আলী হোসেন।
১৯৬৬ সালে আলী হোসেনের সুর-সংগীতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র মোস্তাফিজ পরিচালিত ‘ডাক বাবু’ মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে তিনি শাহনাজ রহমতুল্লাহকে দিয়ে ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’ গানটি করান। একই চলচ্চিত্রে গান করেন সৈয়দ আব্দুল হাদীও। এই চলচ্চিত্রের গানগুলো সে সময় জনপ্রিয় হওয়ার কারণে সংগীত পরিচালক হিসেবে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রের কাজ করার পাশাপাশি উর্দু ‘ছোট সাহেব’, ‘দাগ’, ‘আনাড়ি’, ‘কুলি’ইত্যাদি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার কাজও করেন আলী হোসেন।