শেখ মহিতুর রহমান বাবলু, লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে: সমকালীন বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ব্রিটেনে এই প্রথম সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়জন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০.০০ ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেবেন দেশবরেণ্য অভিনেতা নির্মাতা ও লেখকের সহধর্মিনী মেহের আফরোজ শাওন। ‘হৃদয়ে হুমায়ুন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান একযোগে সম্প্রচারিত হবে লন্ডনস্থ সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে ও TV19online.com এর ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে।
সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে’র সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান ঝিলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ মহিতুর রহমান বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে যুক্ত হবেন অভিনেতা স্বাধীন খসরু, অভিনেতা ফারুক আহমেদ, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী প্রমূখ। এছাড়া সাগর পাড়ের লন্ডন থেকে হুমায়ুন আহমেদের বিখ্যাত সব গান গেয়ে শুনাবেন হুমায়ুন পাগল মঞ্জুরী মন্ডল।
সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে’র সভাপতি আবু সুফিয়ান ঝিলাম বলেন- এ বছর নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন অনাড়ম্বর আয়োজনে করার পরিকল্পনা ছিল। তাছাড়া লেখকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত জুলাই মাসে পার্কে তিন দিনের হুমায়ুন মেলা করার প্রস্তুতিও ছিল আমাদের। সেজন্য পার্ক বুকিং, প্রশাসনিক অনুমোদন সহ আনুসাঙ্গিক অনেক কিছু বছরের শুরুতেই সম্পন্ন করেছিলাম আমরা। কিন্তু অদৃশ্য শক্তি কোভিড-১৯ সব পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে আমাদেরকে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে’র পক্ষ থেকে এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানান সুফিয়ান।
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ মহিতুর রহমান বাবলু বলেন- বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ প্রতিম পুরুষ হুমায়ুন আহমেদের অবদান ও তার সাহিত্যের মান কতটা উন্নত, তা সাহিত্যবোদ্ধা ছাড়া সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই। কালজয়ী এই লেখকের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ করেন বাবলু। তিনি বলেন বছরে দুইবার হুমায়ুন বন্দনা করলে চলবে না। এতে হুমায়ুন আহমেদের অবমূল্যায়ন করা হবে। তার বিদেহী আত্মা কষ্ট পাবে।
নুহাশ পল্লীকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রপান্তরিত করা, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য সূচিতে হুমায়ুন আহমেদর লেখা অন্তনভুক্ত করা, সর্বস্তরে হুমায়ুন চর্চা এবং হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে গবেষণা করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন প্রবাসী এই সাংবাদিক। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ইউকে’র পক্ষ থেকে পাশে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন বাবলু।