ফরহাদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন বিশিষ্ট লেখক ও আইটি বিশেষজ্ঞ। ২০২০ অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশে আসলে প্রবাস মেলা অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রবাস মেলা’র কলাকুশীলদের সাথে তার প্রবাস জীবন এবং বাংলা শিল্প-সাহিত্য চর্চার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলা শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন এর আগ্রহ বহুদিনের। দীর্ঘসময় প্রবাসে থেকেও তিনি এ চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। এসব নিয়ে প্রবাস মেলা’র রিপোর্টার মো: বাছের আলীকে তিনি এক সাক্ষাৎকার দেন। তার চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো……

প্রবাস মেলা: নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।
ফরহাদ হোসেন: আমি ফরহাদ হোসেন, আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফরিদপুর জেলায়, বাবা মরহুম আমিন উদ্দিন আহমেদ, মা মরহুম ফজিলাতুন্নেসা। স্ত্রী মডেল ও অভিনেত্রী সালমা রোজী। আমার এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে হৃদিতা হোসেন ছেলে হৃদভিক হোসেন। প্রায় দুই যুগ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বসবাস করছি।

প্রবাস মেলা: আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।
ফরহাদ হোসেন: আমি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছি। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ থেকে ভেটেরিনারি সাইন্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি।
প্রবাস মেলা: প্রবাস জীবনের প্রথম দিনগুলো কেমন ছিলো।

ফরহাদ হোসেন: ১৯৯১ সালে বিবাহ করেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাই। আর আট দশ জনের মতোই আমাকেও প্রবাস জীবনের প্রথম কয়েক বছর বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। সংগ্রাম করতে হয়েছে প্রতিটা মুহুর্তেই। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন মানুষদের সাথে খাপখাইয়ে চলতে হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত একটা দেশে এসে নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিজেকে চালিয়ে নিতে হয়েছে।
প্রবাস মেলা: এখনো কী সদ্য প্রবাসীদের আপনাদের মতো কষ্ট করতে হয়।
ফরহাদ হোসেন: আসলে আপনি জীবনে ভালো কিছু করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। এখনোও সদ্য প্রবাসীদের নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গেলে কষ্ট করতে হয়। হ্যাঁ, তবে এখন পরিবেশ পরিস্থিতি অনেকটা সহজ হয়েছে। কেননা এখন মানুয়ের কানেকটিভিটি অনেক সহজ এবং মজবুত হয়েছে। এখন সহজেই সবার সাহায্য পাওয়া যায়, তখন এতোটা সহজ ছিলো না। তবে এটা মানে রাখতে হবে প্রবাস জীবনে আসলে আপনাকে অবশ্যই কষ্ট-পরিশ্রম করতে হবে।
প্রবাস মেলা: প্রবাস জীবনের আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
ফরহাদ হোসেন: প্রবাসে আমি মূলত আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ি। আমি অনেকগুলো স্বনামধন্য আইটি কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (আইবিএম) সাথেও কাজ করেছি। সেটা ২০১৮ সালের কথা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তারমধ্যে রয়েছে অ্যাকচেনট্রু, শিকাগো টাইটেল এ্যান্ড ট্রাস্ট, ইন্টার এস্টেট ব্যাটারিস। গালফস্ট্রিম এ্যারো স্পেস কর্পোরেশন ইত্যাদি।
প্রবাস মেলা: বর্তমানের অনেক বাংলাদেশি ছেলে-মেয়েরাও আইটি সেক্টরে কাজ করতে বা ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহী তাদের জন্য যদি কিছু বলতেন।
ফরহাদ হোসেন: আইটি সেক্টরে যারা কাজ করতে চায় বা ক্যারিয়ার গড়েতে চায় প্রথমেই তাদের সাধুবাদ জানাই। আইটি প্রফেশন মূলত একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এখানে প্রতিটা মূহুর্তেই আপনাকে নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চিন্তা করে প্রচলিত ধারার সাথে পাল্লা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এখানে আপনি ছাড়া সবাই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী।
প্রবাস মেলা: পূর্বে নাটক নির্মাণে কাজ করলেও এখন কেন করছেন না?
ফরহাদ হোসেন: আসলে আমরা যে ধরণের নাটক নির্মাণে অভ্যস্ত সে ধরণের নাটকের দর্শক শ্রোতা দিন-দিন লোপ পেয়েছে, বর্তমানে নেই বললেই চলে। আমাদের নাটকগুলোতে সমাজের একটা দিক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হতো। বর্তমানের নাটকগুলোতে শুধু হাসি-তামাশাই বেশি। বর্তমানের দর্শক শ্রোতারা সেটিই বেশি প্রত্যাশা করেন। এই সময়ে নাটক নির্মাণ করতে গেলে কিছু জিনিসের সাথে আপোস করতে হবে। সেটা সম্ভব নয় বলেই নাটক নির্মার্ণ এক প্রকারে ছেড়েই দিয়েছি। এখন লেখালেখিতেই বেশি মনোনিবেশ করছি। তবে সময় সুযোগ পেলে আবারও নাটক নির্মাণে ফিরবো।
প্রবাস মেলা: বর্তমানে লেখা লেখিতে ব্যস্ত রয়েছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
ফরহাদ হোসেন: আগে যে বার্তাগুলো দৃশ্যের মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করতাম এখন সেগুলো কলমের কালিতে দেয়ার চেষ্টা করছি। ২০২০ বই মেলাতেও আমার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে, ‘ধূসর বসন্ত’ এবং ‘তৃতীয় পক্ষ’। এখানে প্রবাসীদের জীবযাত্রা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। দেখানোর চেষ্টা করেছি প্রবাসীদেরও যুদ্ধ করে জীবন চালাতে হয়। প্রতিটা মুহূর্ত তাদেরও ভয় আর শঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে হয়।

প্রবাস মেলা: শুনেছি বেশ কয়েকটি প্রবাসী সংগঠনের সাথে আপনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
ফরহাদ হোসেন: দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে বেশ কয়েকটি প্রবাসী সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। তার মধ্যে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব শিকাগো ল্যান্ড’ অন্যতম। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রখ্যাত আর্কিটেক্ট এফ আর খান। এছাড়া মিডিয়া অর্গানাইজার এবং এ্যাডভাইজার হিসেবে ফোবানার সাথে কাজের সুযোগ হয়েছে।
প্রবাস মেলা: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।
ফরহাদ হোসেন: যতদিন বেঁচে থাকি আরো বেশি করে লেখালেখি চালিয়ে যেতে চাই। দেশে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এছাড়াও আমার এদেশের মাটিতে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা আছে। যাতে করে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও যেন কারো মুখ থেকে আর যেন শুনতে না হয় যে, ‘আহারে আমি যদি বাংলাটা পড়তে পারতাম’।
প্রবাস মেলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
ফরহাদ হোসেন: প্রবাস মেলাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।