রোটাঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়:
আমার ইচ্ছে করে
পূর্ণিমার কোনো রাতে তোমার পাশে
সাগর পাড়ে দুপা ছড়িয়ে বসতে,
আর তুমি বলো……
সে তোমার ইচ্ছে।
ইচ্ছে করে
গোধূলী বেলায়
তোমার হাত ধরে হাটতে হাটতে,,
গোধূলীকে বিদায় জানাতে
আর তুমি বলো
সে তোমার ইচ্ছে।
ইচ্ছে করে
তোমার সাথে,
পাহাড়ের ছুড়ায় ঝর্ণার পাশে বসে
চিৎকার করে বলতে তোমায় ভালোবাসি
দূরের সমুদ্রটাকে দেখতে
আর তুমি বলো
সে তোমার ইচ্ছে।
ইচ্ছে করে
বর্ষায় প্রথম দিনে
তোমাকে নিয়ে ছাদে গিয়ে ভিজতে ভিজতে
বর্ষাকে আমন্ত্রণ জানাতে
আর তুমি বলো….
সে তোমার ইচ্ছে।
ইচ্ছে করে
হেমন্তের রাতে
চাঁদের আলোতে তোমার হাত ধরে
গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটতে
আর তুমি বলো…..
সে তোমার ইচ্ছে।
ইচ্ছে করে,
খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে
চিৎকার করে বলি
তোমাকে ভালোবাসি বলতে
আর তুমিই বলো
সে তোমার ইচ্ছে।
আর আমি বলি
তুমি বঞ্চিত হলে
আমার হৃদয় ছোঁয়া সুন্দর সেই স্বপ্নগুলোর থেকে
সে তোমার ইচ্ছে কথাটির কারণে।।
প্রিয় পাঠক আমার লেখা কবিতার মাঝে বঞ্চিত কথাটি থাকলেও – আসলে বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো।
আপনাদের সামনে বাস্তবমূখী একটি প্রেম কাহিনি তুলে ধরছি। প্রেম যে মানুষকে চুম্বুকের মতই কাছে টেনে নেয় তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে, রুমিও জুলিয়েট, শিরি ফরহাদ, লাইলি মজনু, শাহজান – মমতাজের গল্প বলি।
আজ বাস্তব জীবনে এসে সেই গল্পগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে – বাপ্পি আর সারার প্রেমের গল্প।
সারা আর বাপ্পি তারেকের ভালোবাসার গল্প অল্প করেই তুলে ধরছি।
সারা আর বাপ্পির বাড়ি ফেনী দাগনভুইয়া উপজেলায়, সম্পর্কে তারা দুইজনে কাজিন।
ছোট বেলা থেকেই তাদের প্রেমের গল্প শুরু হয়, এইভাবে চলতে থাকে অনেকদিন। সারার বাবা ছিলেন সৌদি প্রবাস। যার ফলে হঠাৎ করে সারার বাবা পরিবারের সবাইকে সৌদি আরব নিয়ে আসেন। তাদের প্রেমের কিছুটা ভাটা পড়ে। দুইজনের মন খারাপ কেউ কাউকে আর দেখতে পাবেনা, কাছে বসে কথা হবেনা, দুইজনের ভিতরে শুরু হয়েছে উতালপাতাল ঢেউ।
সারা প্রবাসে চলে আসার পর, অনেক দিন তাদের দুইজনের যোগাযোগ ছিলো না। ২০১০ সালে মোবাইল ফোনে, ইমুর মাধ্যমে আবারও তাদের প্রেম চলমান হয়।
প্রেম চলছে আর চলছে, হঠাৎ করে সারার বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায়, আবার বেড়ে গেলো তাদের চিন্তা, বড় বোনের বিয়ে হওয়া মানেই সারার বিয়ের সিরিয়াল। এই ভেবে দুজনের মধ্যে না পাওয়ার আতংক কাজ করছিলো। মনের মাঝে নানান প্রশ্ন জাগছে। এই দিকে সারার বিয়ের জন্য নানান জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছে, সারা কিছুইতেই রাজি হচ্ছেনা।
সারা বিয়েতে রাজি হচ্ছেনা দেখে পারিবারিকভাবে জানতে চাচ্ছে সমস্যা কোথায়, তার একটাই কথা আমি এখন বিয়ে করবো না।
অপরদিকে সারার প্রেমিক বাপ্পি তারেক থাকে দেশে – কি করে প্রবাসে আসবে কোন উপায় পাচ্ছেনা সে। এই দিকে তারেককে পারিবারিক ভাবে বিদেশ পাঠাবে লন্ডনে, সে কিছুতেই রাজি হচ্ছেনা, তার একটিই কথা বিদেশ যদি যেতে হয় তাইলে সে সৌদি আরব যাবে। অবশেষে তারেকের পারিবারিকভাবে সৌদি আরবেই আসা ফাইনাল হয়।
তারেক সৌদি আরব আসতেছে শুনে সারার ঘুম নেই, খাওয়া নেই, দিনরাত একটাই চাওয়া কখন প্রেমিক তারেকের দেখা পাবে।
যাক আল্লাহর অশেষ রহমতে তারেক প্রবাসে এসে পৌঁছেছে।
দুইজনেই নিরব, সারার বিয়ের জন্য যতই বলা হচ্ছে সে রাজি হচ্ছেনা, পারিবারিক চাপাচাপির কারণে অবশেষে সারা পরিবারকে জানিয়ে দিলেন বিয়ে যদি করতে তাহলে কাজিন তারেককেই করবো। পরিবার বল্লেন তারেক দেশে আর তুমি প্রবাসে এটা কি করে সম্ভব?
তখন সারা বল্ল না তারেক দেশে নয় সে সৌদি আরবেই আছে এবং সে বেকার নয় প্রবাসী সেবা কেন্দ্রে চাকরি করছে, ভালো বেতন পায়। সারার আর তারেকের একি কথা বিয়ে করতে হলে সারাকেই করবো। আমি সারাকে পেতে সাত সমুদ্র, তের নদী পাড়ি দিয়ে দেশ থেকে ৬০০০ হাজার মাইল সৌদি আরব এসেছি।
সারা বিহিন তারেক অচল। তাদের দুইজনের অনড় অবস্থায় দেখে অবশেষে পারিবারিকভাবেই দুইজনের বিয়ে হয়। তারা এখন সুখে দিন কাটায়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার রিয়াদ প্রবাসী সেবা কেন্দ্র -A2i -EDC অফিসে গিয়ে তারেকের সাথে সরাসরি আলাপ হলে তাদের সফল প্রেম এবং বিয়ে নিয়ে হাসিমুখে বিস্তারিত আলাপ করেন।
আসলেই প্রিয় পাঠক বাস্তবমুখী প্রেম, মনের প্রেম এমনি হয়। আর বর্তমানে ফরমালিনযুক্ত প্রেম কেমন হয় তা আপনারাও জানেন।
প্রেম আপনার সাথে বিয়ে অন্যের সাথে। আর প্রতিষ্ঠিত না হয়ে অপ্রাপ্তবয়সে প্রেম করলে সে প্রেমের সফলতা আসেনা। তারেক আর সারা সফল হয়েছে – প্রেমের টানে প্রবাসে এসেছে। এখন সারাও চাকুরি করে বাপ্পি চাকুরি – সুখে তাদের দিন কাটে। ওদের জন্য দোয়া করবেন। জয় বাস্তবমুখী প্রেমের, অবসান হোক ফরমালিনযুক্ত প্রেমের।
লেখক পরিচিতি: সাংবাদিক, নাট্যকার, লেখক ও কবি।