হাকিকুল ইসলাম খোকন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক দফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।
তিনি এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ স্বাক্ষরিত ও ফেসবুকে প্রচারিত আমার বিরুদ্ধে একটি বহিষ্কারাদেশ দেখে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে তার হোটেল স্যূটে অনেকের সামনে কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপকে ডেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ড. সিদ্দিকুর রহমানকে জানিয়ে দিতে বলেন। দু’দিন পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সভাপতিত্ব করেন এবং সিদ্দিকুর রহমান দর্শক সারিতে বসে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বিলুপ্ত কমিটির পক্ষে কাউকে বহিষ্কার বা আবিষ্কার করার কোন এখতিয়ার নাই। এছাড়াও কমিটির কাউকেই দলের গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী অব্যাহতি দিতে হলে কার্যকরী কমিটির সভায় অনুমোদন নিয়ে নূন্যতম দু’সপ্তাহ সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হয়। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে যে কোন শাস্তির জন্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তা কার্যকরী কমিটির অনুমোদনের ও সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় উক্ত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে তা আপনা আপনি বাতিল হয়ে যায়। এটাই গঠনতন্ত্রের নিয়ম।
আওয়ামীলীগ পরিবার আয়োজিত ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কুখ্যাত খুনী খন্দকার মোশতাক তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ণ করতে বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুকে তার বিশ্বস্থ সহকর্মীদের থেকে একা করে ফেলা হয় বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তক, প্রবন্ধ, সেমিনার, নাটক, টকশোতে আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি। যাতে খুনিরা সহজেই তাদের মিশন বাস্তবায়ণ করতে সক্ষম হয়। সে সময়ে দল ক্ষমতায় থাকলেও আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে রক্ষা করতে পারি নি। এখানে কোনভাবেই যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইকে ছোট বা চক্রান্তকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। একইভাবে আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়েছে।
আলোচনার শুরুতে বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দকে এ বিষয়ে আলোকপাত করতে অনুরোধ জানাই এবং কিভাবে আমরা আজ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পারি তা জানতে চাই? এ বিষয়টিকে উপজীব্য করে আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে আমার বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র করে ক্রমাগত ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কতিপয় মূর্খ ও আবাল অপপ্রচার চালাতে থাকে। অবশেষে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক অবৈধভাবে দলীয় প্যাড ব্যাবহার করে আমার বিরুদ্ধে বহি:স্কারাদেশ দিয়ে গর্হীত কাজ ও গুরুতর অপরাধ করেছেন।
এজন্যে সিদ্দিক-সামাদ গ্যাং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। আর তাদের সাথে যে সকল অতি উৎসাহী মদতদাতা ও ধান্দাবাজ তথাকথিত সাবেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা অনর্গল ফেসবুকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে কূৎসা রটনা করেছে তাদের লেখাপড়ার লেভেল ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে করুনা প্রকাশ করছি।
আওয়ামীলীগ পরিবারের সাম্প্রতিক কাজ-কর্মে ওরা ঈর্ষান্মিত হয়ে বিলুপ্ত কমিটির কতিপয় নেতাকর্মী ও কতিপয় সূযোগ সন্ধানী চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে আমাকে ফাসানোর হীন প্রচেষ্টা করেছে বলে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তৃণমূল কর্মীদের আশা ভরসার স্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সুযোগ্য কন্যা মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনও এটা মেনে নেবেন না এ বিশ্বাস আমার আছে এবং তাই এ ধরণের বহিস্কারাদেশ আমি ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করছি।