রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের বারআউলিয়া এলাকার খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানিতে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ১০ হাজারেরও অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জোয়ারের পানিতে বসতঘর, কবরস্থান, মসজিদ-মাদ্রাসা, পুকুর, মৎস্য ঘের ডুবে একাকার হয়ে যায়। ফলে তিন দিন ধরে অধিকাংশ পরিবারে রান্নাবান্না হয়নি বলে জানা যায়।

সেই সাথে উপকূলীয় জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে স্থানীয়দের ভোগান্তি বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আনোয়ারার নিম্নাঞ্চলের তৈলারদ্বীপ, বারখাইন, হাইলধর, পরৈকোড়া, কৈখাইন ও আনোয়ারা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে জনদূর্ভোগ বেড়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলতি বর্ষা মৌসুম শেষেই বেড়িবাঁধের মাটির কাজ শেষ করে ব্লক বসানোর কাজ শুরুর মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বারআউলিয়া এলাকায় প্রায় দুইশ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনায় বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হলেও বারআউলিয়া এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটির কাজ না করে ব্লক বসিয়ে দেয়ায় খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি উঠানামা করার ফলে স্থানীয়রা বারবার দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের ১০ হাজারেরও অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, বারআউলিয়া এলাকার বেড়িবাঁধের খোলা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে স্থানীয় ৮, ৯, ৬, ৫ ও ৪নং ওয়ার্ডেও বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও দোকানপাট ডুবে যায় যার ফলে জনজীবনে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবুল হাশেম জানান, গত তিন দিন ধরে পূর্ব বারখাইনের কয়েক হাজার বাসিন্দা জোয়ারের পানিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সময়মতো বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ শেষ না করা ও গ্রামীণ সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় জোয়ারের পানিতে স্থানীয়রা দূর্ভোগে পড়েছে।” এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় কুমার ত্রিপুরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই মাটির কাজ শেষ করে সিসি ব্লক বসানোর মাধ্যমে ভাঙন ও জোয়ারের পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে লাঘব করা হবে।