রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃআনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের পানি নিষ্কাশনের সকল ড্রেনসমূহ অপরিষ্কারের কারণে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।বাজারে আর হাঁটা যায়না ময়লা পানিতে আর অস্বাস্থ্যকর দুর্গন্ধে। টানা কয়েক ঘন্টা বর্ষণ হলে বাজার প্লাবিত হয়ে রূপ নেয় ভাসমান বাজারে। বুধবার ১০ জুন বিকালে হঠাৎ একটু বৃষ্টি হয়। তাতেই দেখা যায় আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট থেকে সিইউএফএল সড়ক চাতরী কাঁচাবাজার পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত।
কারণ খুঁজতে গেলে মিলে, নতুন ২০১৯ সালে করা প্রায় ৪০ ফুট প্রশন্ত সড়কের উভয় পাশেই গড়ে উঠেছে শতাধিক দোকান। এই দোকানগুলোর কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সড়কের ফুটপাতের পুরোটাই অবৈধ দখলে। মানুষ চলাচলের রাস্তা না থাকায় মানুষ হাঁটছে রাস্তার মাঝপথে।পথচারীদের চলাচলের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি, সড়কের মধ্যে মটর রিক্সা, সিএনজি, বাজারের গাড়ি পার্কিং করে রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজটের কারণে ভোগান্তির মুখে পড়েন কেইপিজেড, সিইউএফএল, কাফকো, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ সরকারি বেসকারি প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আপামর জনতা। ঘন্টার পর ঘন্টা পরে থাকে তীব্র যানজট।

চাতরী চৌমুহনী ব্যবসায় সমিতির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল মনছুর বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অপরিষ্কার থাকার কারণে ড্রেনে জমে থাকে, তাই জলাবদ্ধতাসহ নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা তেমন সচেতন নয়, এতে তারা ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলে অপরিষ্কার হয়ে যায়। তাই পানি জমে তাকে। বর্ষার আগেই পরিষ্কার কার্যক্রম না করলে চৌমুহনী বাজার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ওই স্থানে ড্রেন আছে, কিন্তু আউটলেট নেই। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সড়কটির আশপাশের ব্যবসায়ীদের বর্জ্য ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেন জ্যাম হয়ে যায় তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যারা এসব কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওযা হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দখল করে যারা অবৈধভাবে দোকান গড়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আগেও বহুবার এই সতর্ক করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, উক্ত পিএবি সড়কের চাতরী চৌমুহনী বাজারের পানি নিস্কাশনের জন্য ও জনদুর্ভোগ কমাতে ১৮-২০১৯ অর্থ বছরে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ৬০ লক্ষ টাকা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে। এরমধ্যে সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ, পথচারী চলাচলের জন্য ৪০ফুট প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি, সৌন্দর্যবর্ধনে গোল চত্বরও করা হয়েছে। কিন্তু এক বছর না ঘুরতেই সড়কে পূর্বের অবস্থা ফিরে আসায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।এ যেন উন্নয়নকে অসচেতন কিছু মানুষ পিছু টেনে ধরা।