ক. ম. জামাল উদ্দীন, জেদ্দা সৌদি আরব প্রতিনিধি:
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রুগী সৌদি আরবে টানা চারদিন ধরে প্রতি দিন ৩ হাজারের উপর শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত ৩২৮৮ জন, ফলে দেশটিতে মোট রুগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৭১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭৮৩ জন। দেশটিতে নতুন করে সুস্থ হয়েছে ১৮১৫ জন,ফলে মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৬৩৩৯ জন।
সূত্র: সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সূত্রে আরও জানা যায়, দেশটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ৩১ হাজার ৪৪৯ জন, সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন ১ হাজার ৬৮৬ জন।
দেশটির রাজধানী রিয়াদ আজও আক্রান্তের দিক প্রথম স্থানে আছে ১,০৯৯ জন। জেদ্দা ও মক্কায় যথাক্রমে ৪৪৭ জন এবং ৪১১ জন। দাম্মাম, মদীনা, আল খোবার এবং কাতিফে যথাক্রমে ১৯৮ জন, ১৬১ জন, ১৪৫ জন এবং ১৩১ জন।
আল হুফোফ, আল জুবাইল ও খামিস মুশাইতে যথাক্রমে ৯৪ জন, ৫৩ জন ও ৫০ জন। অন্যান্য অঞ্চলেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
মধ্য প্রাচ্যের এ দেশটি প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, করোনা ভাইরাসে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি প্রবাসী বেশী আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যু হচ্ছে। বিশিষ্ট জন মনে করেন, অসচেতনতা, এক রুমে গাদাগাদি করে বসবাস করা এর কারণ হতে পারে, আরও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে,
“এখানে আত্মীয় স্বজনহীন পরিবেশে একটু অসুস্থ হলেই অস্থির হয়ে পড়ে বাংলাদেশিরা। সর্দি, জ্বর, কাশি হলেই রুমের অন্যরা আলাদা করে দেয়। একা হয়ে মরার আগেই মনে মনে মরে যায়।”

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস। মহামারির ছয় মাস পার হলেও এখনই কড়াকড়ি শিথিলের সময় আসেনি বলেও সতর্ক করেছেন তিনি । সম্প্রতি জেনেভার এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন, তিনি আরও বলেন, এ মহামারির ছয় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রম হয়ে গেছে। তবে কোনও দেশের জন্য এখনও প্যাডেল থেকে পা তুলে নেয়ার সময় আসেনি।’
গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথমবার শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যেই দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ বৈশ্বিক মহামারি। আক্রান্ত হয়েছেন ৭১লাখেরও বেশি মানুষ, প্রাণ হারিয়েছেন ৪ লাখ ৬৯১৩ জন ৷ তবে সুস্থ হয়েছেন ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৪৪৭ জন।