মাহবুবুর রহমান, ডেনমার্ক থেকে:
বাংলাদেশ থেকে কি লকডাউন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, নাকি ইউরোপের মতো পর্যায়ক্রমে গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে খেয়াল রেখে ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হচ্ছে? মনে রাখা দরকার লকডাউন একটি দেশের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না । যতদিন পর্ষন্ত করোনার প্রতিষেধক বাজারে না আসবে ততদিন আমাদেরকে করোনার সাথে বসবাসের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিন মাস বয়সী করোনার আঘাতেই আমাদের চারিদিকে হৈচৈ শুরু হয়েছে। যেখানে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সহ সারা বিশ্ব করোনা নিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা সেখানে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী সেটাও বিবেচনার বিষয়।
আমাদের দেশের সার্বিক অবস্থা যথা অর্থনৈতিক ও সমাজিক বাস্তবতা দেখতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষের বাৎসরিক আয় জনপ্রতি ১৯০৯ ইউএস ডলার এবং উন্নত দেশেরগুলির অনেকের বাৎসরিক মাথাপিছু আয় ৩৫হাজার ইউএস ডলার বা তারও উপরে । যেখানে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে উন্নত দেশগুলি হিমশিম খাচ্ছে যেখানে আমাদের সামর্থ্য কতটা আছে তা মূল্যায়ন করতে হলে সবদিক বিবেচনা করে দেখা উচিত।
আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই তিনি বিভিন্ন প্রকারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্ধ দিয়েছেন। সারা বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে । ভয়ে ঘরে ঢুকে থাকলে চলবে না । মনে রাখতে হবে এর আগেও মানব জাতি বহুবার প্রাকৃতিক মহামারি মোকাবিলা করেছে এবং বিশ্বাস রাখতে হবে শেষ পর্ষন্ত মানুষের জয় হবে।
দেশে থেকে ধীরে ধীরে লকডাউন উঠিয়ে নিতে হবে । তবে আবশ্যই সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। দীর্ঘ সময় লকডাউন আমাদের জাতিকে শিখাতে পেরেছে কিভাবে নিজেকে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হয়। কিভাবে সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।
তারপরও যদি কেউ বলে আমি জানিনা এই কথা শুনি নাই তাহলে তাকে নিজেই মূল্য দিতে হবে । এইক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের বিশেষ ভূমিকা আছে।লকডাউন উঠিয়ে নেওয়া সেক্টরগুলিকে শক্তহাতে মনিটরিং করতে হবে প্রয়োজনে আলাদা করোনা মনিটরিং টিম গঠন করা যেতে পারে ।
মনিটরিং টিমের প্রধান কাজ হবে লকডাউন উঠিয়ে নেওয়া সেক্টরগুলি সরকার কর্তৃক বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো বা স্বাস্হ্যবিধি সমুহ অনুসরণ করছে কিনা সেইগুলি দেখা ।মনিটরিং টিমের রিপোর্টিংয়ের ফলাফল যদি ভাল হয় তাহলে দ্বিতীয় প্রাধান্য সেক্টরটির লকডাউন উঠিয়ে নেওয়া যেতে পারে । আর যদি পরীক্ষামুলক মনিটরিং বাদে সারাদেশের লকডাউন একসাথে তুলে নেওয়া হয় বা সস্পুর্ণ খুলে দেওয়া হয় তাহলে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে । নিয়মতান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে, শৃংখলার সাথে মহামারি মোকাবিলা করা স্বাভাবিকভাবে অধিক কার্ষকারী হয়।
মনে রাখতে হবে প্রকৃতিক মহামারির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে করণীয় প্রায় কিছুই থাকে না । তাই মহামারি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ব্যবস্থাপনা বলতে মহামারি পূর্বক পরিকল্পনা, মহামারি কালিন পরিকল্পনা, মহামারি পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনা।
লকডাউন উঠিয়ে নেওয়ার পরে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করে অন্যান্য অবকাঠামো খাদ্য উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া, শিল্প, ব্যবসা বাণিজ্য কলকারখানা চালু রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগীতা প্রদান করতে হবে। লকডাউন উঠিয়ে নেবার পরের সময়টা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে হবে এবং সাধারণ জনগণকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আনতে সচেষ্ট হতে হবে-এতে করে দেশের অর্থনীতির উপর মহামারির প্রভাব কম পরিলক্ষিত হবে।