রাজলক্ষ্মী মৌসুমী:
আমি কে? এর কোন উত্তর আছে কী? নেই।
ভেতরের কুৎসিত রূপটা কেউ দেখতে পায় না তাই।
আমার আমিত্বে ডুবে থাকাটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য।
আমিত্বকে জাহির করার জন্য আমরা বেমালুম ভুলে যাই
হৃদমন্দিরের আভিজাত্যকে, সমাজ, প্রিয় সংসার, বন্ধু বান্ধব, ভালো মন্দ।
কেউ বলতে পারো আমিত্বের অবক্ষয়ের কারণ?
লোভাতুর লালসার ভাবনা পিতামাতার অস্তিত্বকে কলুষিত করে
আমিত্বের বড়াই করাই ‘আমি’ রুপের শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
পিতামাতার মহান ব্রতকেও ‘আমিত্ব’ পায়ে ঠেলে দিয়ে
অসহায় দূর্বল মানুষের আহার কেড়ে নিচ্ছে হিংস্র দানব রূপী লোভী মানুষ।
নির্বাক দৃষ্টিতে হজম করে নেয় দীন দরিদ্র।
বলার অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষ।
এই যে বললাম আমি কে?
প্রতিটি মানুষের মনের কল্পনার ‘আমি’ কণাগুলি কোথায় ঠাঁই পাবে বলা বড়ই মুশকিল।
কেউ বিপদে, বিপাকে, পরে মিথ্যাচারী, চুরি, ডাকাতি করে।
জানতেও চাইনা কেনো এই অনাচারের কারণ।
আবার কেউ কেউ সুযোগ সন্ধ্যানী।
জেনে বুঝেই পাপ কাজে লিপ্ত হয়।
চুরি, ডাকাতি, টাকা আত্মসাৎ, অসহায়ের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়া।
পরিচালক তাঁর দু’হাত ভরে দিয়ে যান অসহায়ের তরে
কিন্তু কী নির্মম, নির্দয় আমার আমিত্ব।
রাবণের দেশে যে যায় সেই রাক্ষসের বেশে আসে।
মানুষরুপী ভাইরাস ‘করোনা’ ভাইরাসের চেয়েও ধ্বংসাত্মক।
আমিত্বের প্রতিবিম্বের কোন মৃত্যু নেই, ধ্বংসও নেই,——
এর নেই কোন প্রতিকার।
কিন্তু এই রোগ কোন বংশগত ব্যাধি নয়।
বহুমূত্র রোগ তো বংশানুগত হয়ে থাকে।
কিন্তুএই রোগ করোনা ভাইরাসের মতো।
যার কোন ওষুধ নেই।
এই ‘আমি’ আমিত্ব, আমার ব্যাধিটা গতানুগতিক, চলতেই থাকবে।
একজন মা কতটুকু মনের কষ্টে, কতটুকু অবিশ্বাসী ভাবলে বলতে পারেন,
কাফনের কাপড় কিনে দিলেও মনে হয় এরা পাঞ্জাবী তৈরী করে নেবে।
একজন মানুষ ও তার মন এক সূত্রে নয়, একেবারেই ভিন্ন।
মানুষের অবয়ব বদলায় না কখনও,
কিন্তু মন ক্ষণে ক্ষণে বদলায়।
আকাশের রং যেমন বদলায় তেমনি রং বদলায়।
করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বের সম্রাজ্ঞী যখন তখন, যত্র তত্র,
বিচরণ করে চলেছে কিন্তু এদিকে যে আমার আমিত্বকে গৃহে বন্দীদশায় রাখা বড়ো দায়।
মন যে ‘আমিত্ব’ ‘আমি’ বহুরূপী।
করোনা ভাইরাস ও ‘আমি’ আমিত্ব এক সূত্রে যে গাঁথা।
কেউ কৌতুহলে বাহিরে, আবার কেউ সুযোগের সন্ধানে বাহিরে।