আবুল কালাম আজাদ খোকন, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি: জলসা মানে নৃত্য-গীতাদির বৈঠক। আর এই গীতাদির বৈঠকের আয়োজন করেছে ‘পথ প্রোডাকশনস’ সংগঠন। পথ প্রোডাকশনস সিডনির একটি অলাভজনক সাংস্কৃতিক সংগঠন। পথ প্রোডাকশনস এবার দ্বিতীয় বারের মত জলসার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে নতুন ও পুরোনো দিনের গান দিয়ে সাজানো হয়েছে সংগীতসন্ধ্যাটি।
১৮ জানুয়ারি ২০২০ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতসন্ধ্যা নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ।জলসা উপস্থাপনায় ছিলেন শুভজিৎ ভৌমিক। অনুষ্ঠানে সিডনির স্থানীয় নবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু পুরাতন শিল্পীরাও গান করেছেন।
স্থানীয় শিল্পীরা হলেন নাহিদ রুপসা, নাবিলা স্রোতস্বিনী, নিজাম উদ্দিন উজ্জ্বল, রুমানা ফেরদৌস, ফাতেহা ফেরদৌস সুমনা, আশিক চৌধুরী, লুৎফা খালেদ, তামিমা, জিয়াউল ইসলাম তমাল, পলাশ বসাক, এঞ্জেলা চুমকি হালদার, সেমন্তী আতিক, নীলাদ্রি চক্রবর্তী, জিউ বিশ্বাস, মুশফিকুল হাসান সুমন, নিশা ইসলাম ও জিয়া।
অনুষ্ঠানে নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, বাংলা চলচ্চিত্র, ভারতীয় বাংলা, হিন্দি, সাঁওতালী, কোরাস, মেডলি গান পরিবেশিত হয়। ওপার বাংলার শিল্পী আশা ভোঁসলে ও রাহুল দেব বর্মন এবং এপার বাংলার কিংবদন্তি শাহানাজ রহমতুল্লাহ ও সুবীর নন্দীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গান করা হয়।
যন্ত্রসংগীতে সহযোগীতায় ছিলেন-তবলায় মাহা ঋষি, কী-বোর্ডিস্ট নীলাদ্রি, অক্টোপ্যাডে জিয়া তমাল, লীড গিটারে সোহেল খান, বেজ গিটারে প্রাজ্ঞল অধিকারী, বাঁশিতে ইন্দ্রনীল চৌধুরী, চেলোতে জেনিথ, স্যাক্সোফোনে জেকি কিং, ড্রামে সাঈদ মইনুদ্দিন মাহদি ও সেতারে স্কট বেনিং। ভায়োলিন বাজিয়েছেন ইসাবেল, ডোরা ও মে। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ইয়াজ পারভেজ ও আতাবুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানের ভিজুয়াল এফেক্ট তৈরী করেছেন আরজিন হোসাইন দীপ্র।
আয়োজক সাকিব ইফতেখার বলেন, সিডনির স্থানীয় শিল্পীদের গান পরিবেশনে সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে জলসা-২। গতবার আট জন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে আর এবারে জলসা গ্রেন্ড শোতে ১৭ জন শিল্পী গান পরিবেশন করেছে। পথ প্রোডাকশনস সর্বদা ব্যতিক্রমধর্মী কিছু অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। এই সংগীতানুষ্ঠানের সমুদয় অর্থ ক্যান্সার কাউন্সিলের জন্য অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান সফল করার জন্য নাহিদ রুপসা ও ফয়সাল হোসাইন সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। জলসার ডিরেক্টর নিজাম উদ্দিন উজ্জ্বল দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে সিডনির স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী লাইভ প্রাগ্রাম সফল করেছেন। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটির দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বেশ উপভোগ্য ছিল।