রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম: শিক্ষা মানুষের ৫টি মৌলিক অধিকারের একটি তবে সেটি দিনের পর দিন হয়ে যাচ্ছে ব্যবসার স্থান। টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করা হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা নয়, যেন কাঁচাবাজার। ভর্তির দর কষাকষি টাকার লেনদেন, আর স্কুল থেকেই সবার কিনার নামে চলে বাণিজ্য। এই টাকা কোথায় যায়, কিভাবে খরচ হয়! জানার আগ্রহ জেগেছে।সরকারি কোষাগারে কর-ভ্যাট, ট্যাক্স পাচ্ছে কিনা! বেশি জানতে চাইলে মিডিয়া হয়ে যাবে খারাপ, তাই সম্মিলিত ভাবে সচেতনার পাশাপাশি জেনে নিব। অতিরিক্ত ফি বা টাকা আদায়ের অভিযোগ করুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
আমরা দেখেছি বছরের পর বছর, শিক্ষার্থীরা টাকা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানকে। পাস করা ছাত্র-ছাত্রী পরের ক্লাসে নাম লিখাতে আবার ভর্তি ফি কেন? স্কুল জীবন থেকে এই ভদ্রবেশী শিক্ষিত চাঁদাবাজদের শিকার হচ্ছে শিশু থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। আমরা দেখেছি এই অত্যাচার চলছে শিশু শ্রেণি থেকে স্নাতক অর্থাৎ শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ক্লাসে যাকে বলা হয় ভর্তি ফি, উন্নয়ন ফি, লাইব্রেরি ফি, আরো কত কি! একটা পরিবারের শিশুকে শিক্ষামুখী করার প্রথম ধাপেই যদি এইরকম হয় তাহলে শিক্ষা বিমুখ হওয়াটা বা শিক্ষা জীবন থেকে ছিটকে পরাটা স্বাভাবিক নয় কি? কচি মনের একটা বাচ্চাকে তার পরিবার অনেক উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন বছর জানুয়ারিতে স্কুলে নিয়ে যায়, বাচ্চার ভিতরেও থাকে অনেক কিউরিসিটি, গিয়ে দেখা যায় ২-৭/৮ হাজার টাকা লাগে ভর্তি হতে, তাহলে কিভাবে একটি পরিবার সাহস পাবে। এইগুলি অপরাধে আওতায় আসেনা কেন! প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন থাকলো। কিভাবে সাধারণ বা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে মেধা উঠে আসবে! তাহলে কি তারা অংকুরেই বিনষ্ট হবে আমাদের সামনে। যদিও পাঁঁচটি মৌলিক অধিকারের একটি হচ্ছে শিক্ষা, তাহলে সেই শিক্ষা যদি এত কষ্টের ও ব্যয়বহুল হলে, আমাদের মত মধ্যম ও নিম্ন আয়ের লোকদের বাচ্চারা কিভেবে উচ্চ শিক্ষিত হবে।

অভিবাবকের প্রতি: কচুর ছাতার মত গজানো কিন্ডারগার্ডেন বা ইংলিশ মিডিয়ামে বাচ্চা দেয়ার জন্য হুড়াহুড়ি না করে, শিশু শ্রেণি, নার্সারী নামক ক্লাসে দিয়ে ১২-১৫ টা বই ১০টি খাতা ক্ষুদে বাচ্চার পিঠে চেপে না দিয়ে বাচ্চার বয়স সরকারি অনুযায়ী করে সরকারি স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করলে শিশু মেধাবী অবশ্যই হবে। আমরা যদি এই অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি কে বর্জন করি তাহলে তাদের উচিত শিক্ষা হবে। তদন্ত করলে দেখা যায়, এইসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি, তাদের নেই কোন নিজস্ব ক্যাম্পাস, নেই বাচ্চাদের খেলার মাঠ, নেই গ্রাজুয়েট টিচার, নেই আয়-ব্যায়, টেক্সের হিসাব, একটি খাতা-পেন্সিল কিনলেও তাদের কাছ থেকে কিনতে হয়, কেন! এইগুলি কি বাজারে লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় না? তারা শ্রেণী কক্ষের অভাবে কয়েকটি শ্রেণীকে এক সাথে বসিয়ে ক্লাস করায়।এইসবের কারণে আমরা প্রকৃত মেধার থেকে বঞ্চিত মনে করছি। দ্রুত এইগুলি একটু নজরে আনলে আগামীর ভবিষ্যৎ আমাদের শিশুগুলি পাবে একটি সুন্দর সমাজ, তারা উপহার দিবে তাদের পরের প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী। আসুন, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারের পাশে দাড়াই, তাদের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা আপনার, আমার, সবার দায়িত্ব। সরকারি শিক্ষার, সরকারি সুযোগ ও সার্ভিসের কিছু বিকল্প হতে পারেনা। আপনার শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিন, দেখবেন ঠিক সে প্রকৃত মেধাবী হয়ে উঠবে।সেই পরিবারের অহংকার ও অলংকার হয়ে উঠবে।