হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: “দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ সম্মান দুই মেলে” – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অভিবাসীদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক “আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস – ২০১৯” উদযাপন করেছে। এ দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনের শুরু থেকেই কনস্যুলেটে আগত সেবা প্রার্থীদের ফুল ও চকলেট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। অপরাহ্নে কনস্যুলেটে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে ছিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর বাণী পাঠ, আলোচনা সভা ও ভিডিও চিত্রপ্রদর্শনী। দ্বিতীয় ভাগে ছিল রেমিটেন্স বিষয়ক আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মাননীয় কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তাঁর বক্তব্যে অভিবাসীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন অভিবাসীরা বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। বৈধ পথে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণের জন্য তিনি অভিবাসীদের অনুরোধ জানান। তিনি জানান বৈধ চ্যানেলে প্রেরিত রেমিটেন্সের উপর ২% হারে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশী-আমেরিকান নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে আগামী বছর (২০২০) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উদ্যাপনে সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য তিনি সকলকে আহবান জানান।
কনসাল জেনারেল সোশ্যাল মিডিয়া সতর্কতার সাথে ব্যবহার করার জন্য অভিবাসীদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। তিনি আরো উলে−খ্য করেন সত্য মিথ্যা যাচাই করার পর যেন তথ্য শেয়ার বা পোষ্ট করা হয়।
তিনি স্মরণ করেন যে ২০১৬ সালে জাতিসংঘে অভিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘Global Compact for Safe, Orderly and Regular Migration’ বিষয়ক প্রথম প্রস্তাবনা প্রদান করেন। ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়দানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে মানবিক উদারতার পরিচয় দিয়েছেন, তার ফলশ্রুতিতে আজ বিশ্বের বুকে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গারা যেন তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সেজন্য অভিবাসীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য কনসাল জেনারেল অনুরোধ করেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আগত অতিথিবৃন্দকে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে প্রেরিত ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। ভিডিও চিত্রটিতে সাইবার স্পেসে সত্যমিথ্যা যাচাই না করে তথ্য আপলোড বা শেয়ার এর নেতিবাচক বিয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে সোনালী একচেঞ্জ এর পরিচালনায় বৈধভাবে ও সহজ উপায়ে রেমিটেন্স প্রেরণে সোনালী একচেঞ্জ কর্তৃক কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও সরকার কর্তৃক রেমিটেন্স প্রেরণে প্রণোদনার বিষয়টি এবং আগত অতিথিদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, বিভিন্ন একচেঞ্জ কোম্পানীগুলো তাদের মাধ্যমে প্রেরিত শীর্ষ রেমিটারদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগহণ করেন এবং শীর্ষ রেমিটারদেরকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অভিবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, কনস্যুলেটে আগত সেবাপ্রার্থীরা এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আজ ৩০০ জন অভিবাসী কনস্যুলার সেবা নিতে কনস্যুলেটে আসেন এবং তারা কনস্যুলেটের এ ধরনের আয়োজনে ও আপ্যায়নে অভিভূত হন।
অনুষ্ঠান শেষে আগত অভিবাসীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।