জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: ‘যদিও এই অনুষ্ঠানের নাম ‘শুধু কবিতার জন্য’ তবু আমাদের লক্ষ্য হল চারুশিল্পের সামগ্রীক বিকাশ।’ বলছিলেন, ‘পেখম’ এর কর্ণধার প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে স¤প্রতি এক সন্ধ্যায় বসেছিল পেখমের বর্ণময় কবিতাসন্ধ্যা। অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘শব্দকল্প’ (কোলকাতা)’র শিশুশিল্পীদের অসামান্য একটি কবিতা কোলাজে, যার পরিচালনায় ছিলেন আকাশবাণীর শিল্পী দেবযানী রায়গুপ্ত। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত হলেন প্রথিতযশা আবৃত্তিশিল্পী সুমন্ত্র সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট কবি বীথি চট্টোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী ও অভিনেতা সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। সংবর্ধনা গ্রহণের পরে কথায় ও ‘জীবনদেবতা’ আবৃত্তির মাধ্যমে সুমন্ত্র সেনগুপ্ত চিরস্মরণীয় স্বাক্ষর রাখলেন। নিজের কবিতা পড়লেন বীথি চট্টোপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামসেদপুর নিবাসী সমাজসেবী ও সাংস্কৃতিক কর্মী পূরবী ঘোষ, কবি রুদ্র গোস্বামী এবং আবৃত্তিশিল্পী ও রেডিও ঘোষক অমিতাভ রায় চৌধুরী। চুঁচুড়ার মুকুর শ্রুতিনাট্য গোষ্ঠী উপস্থাপন করলেন মহাভারত নির্ভর নাট্যকাব্য কোলাজ। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা

পাঠ করেন কবি কেতকী প্রসাদ রায়, অনিরুদ্ধ ব্যানার্জী, জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, অমিত চক্রবর্তী, জীতেন্দ্র ধীর (হিন্দি), সাহিদা হুসেন সাহিদ (উর্দু), অর্পিতা ভট্টাচার্য, মধুমিতা রায় ও অশোক সরকার (অর্জুন)। আবৃত্তিতে এছাড়াও মনোগ্রাহী ছিলেন অধ্যয়ন রায় (শিশুশিল্পী)। বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী অরুময় বন্দোপাধ্যায়, স্বাতী বন্দোপাধ্যায়, স্বপ্না দে’র উপস্থাপনা অত্যন্ত উন্নতমানের এবং শ্রুতিমধুর। অনিন্দ্যসুন্দর রায়, পৌলমী ঘোষ, দোলনচাঁপা সরকার, কাকলি দাশগুপ্ত ও সমর্পিতা দাশগুপ্তও যথাযথ। কবিতার গানে মুগ্ধ করেন মৌসুমী হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ ছিল কবি রামচন্দ্র পাল সংকলিত ‘পেখম’ নিবেদন ‘বৃষ্টি ও শ্রাবণের রূপকথা’ যার অসামান্য কন্ঠ উপস্থাপনায় ছিলেন যশস্বী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে সোমা আইচ। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন নন্দিনী লাহা। আবহে অলোকেশ দে সরকার (সানি)। সব থেকে আশার কথা, অত্যন্ত উপভোগ্য ও উঁচু মানের এই অনুষ্ঠানটিতে দর্শক আসন শুরু থেকেই ছিল পূর্ণ। আমরা পরবর্তী পেখম মেলার প্রতীক্ষায় রইলাম।