আবুল কালাম আজাদ খোকন, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা বছর বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা হয়। তারমধ্যে দুর্গাপূজা বাঙ্গালির সেরা উৎসব। এই পূজা শুধু মূর্তি পূজা নয়; এই পূজা দেবী দুর্গাপূজা। এই পূজায় দেবিকে স্বর্গ থেকে নেমে মর্তে এনে পূজা করা হয়। বহু দিন ধরে এই পূজা বাঙ্গালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে একটা দাগ কেটে গিয়েছে যা পরে তাদের শ্রেষ্ঠ পূজায় পরিণত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শারদীয় দুর্গাপূজা। পুরো অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী সিডনিতেই পূজা সম্পন্ন হয়। সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দুদের সংগঠনগুলির উদ্যোগে কয়েক বছর ধরে পূজার আয়োজন করে আসছে। এখানে কমিউনিটি সেন্টারগুলিতে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ তৈরী করে এই পূজা উদযাপন করে। ‘আগমনী অস্ট্রেলিয়া পূজা কমিটি’ সিডনিতে একটি বড় সংগঠন যা গত ৪ বৎসর যাবৎ পূজা উৎসবের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্গাপূজা মূলত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান যা একমাত্র আগমনী সংগঠনই তা শুদ্ধতার সাথে পালন করে থাকে। গত ৪ অক্টোবর শুক্রবার থেকে ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার গ্লেন্ডফিল্ড কমিউনিটি হলে আগমনী অস্ট্রেলিয়া পূজা কমিটি দুর্গাপূজা পালন করে। এখানে পূজার সময় মন্দিরে ভক্তিমূলক গান, চণ্ডীপাঠ, অঞ্জলী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তদের শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং সেই সঙ্গে প্রণাম, আশীর্বাদ ইত্যাদি দুর্গোৎসবকে ধর্মীয় আবেশে আনন্দঘন করে তোলে। শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ বিজয়া দশমীটাই শেষ দিন বলে পূজা সমাপনের পূর্বে সিঁদুর খেলা করে থাকি।
আগমনী অস্ট্রেলিয়া পূজা কমিটির কো-অর্ডিনেটর তাপস পাল বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু ধর্মাবলীদেরকে হিংসা-বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত করে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। অস্ট্রেলিয়াতে অন্যান্য সংগঠনগুলো ব্যস্ততার জন্য এক বা দুই দিন শারদীয় দুর্গোৎসব উদৎযাপন করে ও আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। পূজা উদযাপন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে।
উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়াতে অন্যান্য হিন্দু সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আভা পূজা কমিটি, ভক্ত মন্দির পূজা কমিটি ও বিপিএস পূজা কমিটি প্রমুখ। স্থায়ী পূজামণ্ডপ তৈরী করতে সম্প্রদায়ের বাংলাদেশিরা কাজ করে যাচ্ছে।