কামাল পারভেজ অভি, মক্কা, সৌদিআরব প্রতিনিধি: আকামা থাকা সত্ত্বেও সৌদিআরব থেকে আবারো ১০৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ৮ অক্টোবর রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্স এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে ৪২ ও বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে আরেকটি বিমানযোগে ৬৩ জন দেশে ফেরেন। এ নিয়ে সৌদি থেকে ধরপাকড়ের মুখে চলতি মাসেই ৪৪১ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরলেন।
অন্য দিনের মতো ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরেরর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।
ফেরত আসাদের একজন পিরোজপুরের শামীম দাবি করেন, মাত্র দেড় মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা থাকা সত্ত্বেও তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
মুন্সিগঞ্জের মহিউদ্দিন জানান, ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। আকামাসহ বৈধভাবেই ছিলেন। দুদিন আগে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি আকামা দেখালেও তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আটকের কারণ জানতে চাইলে মারধর করা হয়।
দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ তাদের আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের ধরে সবজি, খেজুর ও পানি বিক্রিসহ ভিক্ষা করার মতো মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশে পাঠানো হচ্ছে।
এ বছর ১০ থেকে ১১ হাজার কর্মী সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণ ফ্রি ভিসার নামে গিয়ে এক নিয়োগকর্তার বদলে আরেক জায়গায় কাজ করলে কর্মীদের ফেরত পাঠানো হতো। কিন্তু এবার ফেরত আসা কর্মীদের অনেকেই বলছেন, তাদের বৈধ আকামা ছিল। আকামা থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তা অতিদ্রুত জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ও রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।