আবুল কালাম আজাদ খোকন, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি: একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। ১৯৫২ সালের এই দিনে ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে শহীদ হন রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকতসহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে।
জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। ২০১৮ সালে ২৮ মে কমিউনিটি সংগঠন ‘বাংলা হাব ইনক’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রস্তাব করে ক্যান্টারবারী ও ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলে আবেদন করা হয় যা তিন মাস আগে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অ্যাসফিল্ড পার্কে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয় ২০০৬ সালে। আর সিডনিতে এবার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের হতে যাচ্ছে বাংলা হাব ইনক এবং ক্যান্টারবারী ও ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের অধীনে। সিডনির ল্যাকাম্বার পিল পার্কে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মৃতিসৌধটির প্রাথমিক একটি নকশা তৈরি করেছেন পার্থ প্রতীম বালা।
অংকিত নকশায় দেখানো হয়েছে, একটি বেদি থেকে দুটি হাতের ওপর পৃথিবীকে তুলে ধরে রাখা; যাতে বাংলা ভাষার অক্ষরসহ বিভিন্ন ভাষার অক্ষর রয়েছে। স্মৃতিসৌধের উচ্চতা ও প্রস্থ হবে ২৮ ফুট করে এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। কমিউনিটি থেকে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হবে, সেই পরিমাণ অর্থ সিটি কাউন্সিল অনুদান দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। ক্যান্টারবারী ও ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের এবং সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
ইতিমধ্যেই একটি তহবিল সংগ্রহের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে কাউন্সিলরের অধীনে।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ উপলক্ষে গত ২৮ জুলাই সিডনির লাকেম্বায় প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন। বাংলা হাব ইনক এর চেয়ারম্যান মুনির হোসাইনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন মুক্তমঞ্চের সম্পাদক আল নোমান শামীম। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর, সাংবাদিক ও সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
আগামী ১৩ অক্টোবর এই প্রকল্পের জন্য সিডনির স্থানীয় রেস্টুরেন্টে একটি ফান্ডরাইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে।