সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে: ১৭ নভেম্বর রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল কেবি হানা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে ইপিএস বাংলা কমিউনিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী উক্ত ইপিএস অ্যাওয়ার্ড ও উদ্যোক্তা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সকল ১০.৩০ মিনিটে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আহসানুল ইসলামের পবিত্র কোরাআন তিলাওয়াত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মৃদুল সোমের পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এ সময় উপস্থিত সবাই দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
ইপিএস বাংলা কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজের উপস্থাপনায় উপকমিটির পক্ষে সিনিয়র সহ-সভাপতি আলা-আমিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন এরপর আমন্ত্রিত অন্যান সামাজিক সংগঠন ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন অনুষ্ঠানের সাফলতা কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
দেশের বাহিরে অবস্থান করায় সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম ম্যাডাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন নি, ম্যাডামের পক্ষে দূতাবাস কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অনুষ্ঠানে ম্যাডামের লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান।

এরপর ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে ৩ জন ইপিএস কর্মীর সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প এবং তাদের প্রতিষ্টানের কার্যক্রম দেখানো হয়। বেশী সংখ্যক বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী নিয়োগ প্রদান করায় দুইজন কোরিয়ান মালিককে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং অন্যান ক্যাটাগরিতে ইপিএস উদ্যোক্তা, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও বেস্ট ইপিএস কর্মী হিসেবে প্রত্যেক বিভাগে দুই জন করে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত কোরিয়ান মালিক ও ইপিএস কর্মীগন তাদের নিজ নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
দুপুরে খাবার ও নামাজের জন্য ৩০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হয় (উল্লেখ্য যে অনুষ্ঠানস্থলে সবার জন্য সুস্বাদু দেশীয় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়)
দুপুর ২ ঘটিকায় দিনের ২য় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় সিউল বিজনেস এজেন্সী (SBA) প্রতিনিধি বক্তব্যর মাধ্যমে। তিনি খুব শীঘ্রই অন্যান দেশের মত বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং পশিক্ষণ শেষে দেশে গিয়ে ব্যবসা শুরু করতে সহযোগিতার সুযোগ দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এরপর কিম উন জু আমদানী/ রপ্তানী নিয়ে তার মুল্যবান বক্তব্য রাখেন। প্রোগ্রামের অন্যতম সহযোগী কেই বি হানা ব্যাংকের প্রতিনিধি সহজ ও নিরাপদ ব্যাংকিং এবং কোরিয়াতে ডিপোজিট করে ভিসা পরিবর্তনে সুবিধা পাওয়া যায় এর বিস্তারিত বর্ণনা করেন।
বাংলাদেশী সফল নারী উদ্যোক্তা রিপা আর জাহান কোরিয়া-বাংলাদেশে নিজের ব্যবসার অভিজ্ঞতা সবার কাছে তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ইপিএস সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার, ইপিএস এর সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনাব মোহাম্মদ শামসুল আলম স্যার ইপিএস এর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তুলে ধরেন। ইপিএস এর সমস্যা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। নিজ সার্থকে বিসর্জন দিয়ে দেশের সার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কোরিয়ানদের সাথে সামাজিক কাজের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করে বাংলাদেশ ইপিএস কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সবাইকে একযুগে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী একজন সফল উদ্যোক্তা ও উদ্যোক্তা তৈরির কারিগর ”নিজের বলার মত একটা গল্পের” প্রতিষ্টাতা জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে কি কি করতে হবে তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন উদ্যোক্তা হতে হলে টাকা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন যা দক্ষিন কোরিয়া প্রবাসীদের আছে। শুধু সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বিনিয়োগ করতে সাহস পান না। অন্যর স্বপ্ন পূরণের জন্য সারাজীবন বিদেশে পড়ে না থেকে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহস নিয়ে শুরু করার আহবান জানান।
উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত ইপিএস কর্মীগন ইপিএস এর বিভিন্ন ইস্যু ও উদ্যোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করেন সম্মানিত অতিথিদের।
অনুষ্ঠানে কোরিয়ান বক্তব্য বাংলা দুভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেন সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইংরেজি হতে বাংলা দুভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেন সদস্য জাকির হোসেন পলাশ।
অনুষ্ঠানে প্রথম উপস্থিত ৫০ জনকে বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে সিউল বিজনেস এজেন্সি (SBA) পক্ষ হতে নাস্তার বিশেষ প্যাকেট ও জুস প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতায় ছিল কেইবি হানা ব্যাংক, সিউল বিজনেস এজেন্সি(SBA), সুমাইয়া টেক,ভিক্টোরিয়া ট্রাভেল,হ্যাপি স্টার ট্রাভেল,কোরিয়া মার্ট- বাংলাদেশ ও কোরিয়া ফরেইন ওয়ার্কার্স সাপোর্ট সেন্টার৷
উল্লেখ্য যে, কমিউনিটির ওয়েবসাইটে পূর্বেই উক্ত অনুষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। ইপিএস বাংলা কমিউনিটির প্রত্যেক সদস্য মাসব্যাপী নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেন।