মার্ক রায়, তুলুজ ,ফ্রান্স প্রতিনিধি: বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও বাংলা ভাষা,সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার কোন কমতি নাই ফ্রান্সের তুলুজ শহরে বসবাসরত বাঙালিদের মাঝে। তাইতো বাংলাদেশের প্রধান সার্বজনীন উৎসব বৈশাখী উৎসবকে পালন করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজির হয়েছিল সবাই। বৈশাখ ১৪২৬ কে কেন্দ্র করেই ১৬ জুন নির্দিষ্ট স্থানীয় একটি হলে অনুষ্ঠিত হলো তুলুজ শহরে বাঙালিদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানাতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুলুজ শহরের সহকারি মেয়র Jean Claude Dardelet, প্যারিস থেকে আগত কাজী এনায়েত উল্লাহ ইনু (প্রেসিডেন্ট,ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ অরগানাইজেশন), বার্সেলোনা থেকে আগত মাহারুল ইসলাম মিন্টু – (সভাপতি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন বার্সেলোনা, স্পেন), অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে আগত ফিরোজ আহমেদ (সহ-সভাপতি আয়েবা)
বরাবরের ন্যায় অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ফখরুল আলম সেলিম, সভাপতি -বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজ। যথারীতি দুপুরের আহারের পর সাকের চৌধুরী ও বিপ্লবের প্রাণবন্ত উপস্থাপনার শুরুতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

অতঃপর সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন এই অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সংগঠনের সভাপতি এবং অন্যদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সহকারি মেয়র স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন এই শহীদ মিনার স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তুলুজ শহরে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরো মসৃণ হবে।
কাজী এনায়েত উল্লাহ ইনু তার বক্তব্যে স্থায়ী শহীদ মিনারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আরো উল্লেখ করেন আগামীতে এই তুলুজ শহরেই স্থায়ী শহীদ মিনারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাঙালিরা এসে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে, তুলে ধরার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান। সভাপতি তার সমাপনী ভাষণে উল্লেখ করেন, আমি এই কমিউনিটিকে ভীষণ ভালোবাসি, আসুন আমরা নিজেদের সব ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একসাথে পথ চলি।
সাংগঠনিক পর্ব শেষে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে স্থানীয় মহিলাদের তৈরিকৃত পিঠা মেলার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হরেক রকম পিঠার স্বাদ ছিল আজকের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
রাখি ও মিষ্টি এর উপস্থাপনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শশী দেওয়ান ও ইভার নেতৃত্বে স্থানীয় অসংখ্য শিশুদের নাচের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সংগীত পরিবেশন করেন লন্ডন থেকে আগত শিল্পী লাবনী বড়ুয়া, স্থানীয় শিল্পী মেহেদি হাসান স্বপন, রাখি সহ অন্যান্যরা।
কবি সাহিত্যক ও বাচিকশিল্পী রবি শংকর মিত্র এর উপস্থিত ছিল আজকের এই অনুষ্ঠানের বাড়তি আকর্ষণ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের, “কেউ কথা রাখেনি” কবিতার আবৃত্তি দিয়ে তিনি সবার হৃদয়কে ছুঁয়ে গিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতি অতিথিবৃন্দ এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি যোসেফ ডি কস্তা এর রেস্টুরেন্ট এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।