সত্যরঞ্জন সরকার, কুয়েত সিটি, কুয়েত
জন্মস্থান ও ধর্ম নির্বাচনে আমার কোন হাত নেই। যেমন হাত নেই আমার পিতামাতা নির্বাচনেও। এসব আমার নির্বাচন বহির্ভূত। তার পরেও জন্মভূমি নিয়ে, জন্মস্থান নিয়ে মানুষের মনে থাকে আবেগ মিশানো ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। বিখ্যাত মানুষদের জন্মস্থান, জন্মভিটা সংরক্ষিত হয়। দ্রষ্টব্য স্থান হিসাবেও ইতিহাসের পাতায় তা অমর হয়ে থাকে। অন্যদিকে পিতামাতার কাছ থেকেই যে জীবন পেয়েছি, জীবনের প্রথমদিকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ, স্নেহ ভালোবাসা ছাড়া আমার বেঁচে থাকা হয়তো সম্ভব হতো না। আর সে জন্যে আমি পৃথিবীতে সবচেয়ে পিতামাতার কাছেই বেশী কৃতজ্ঞ। জন্মাবার পরে বড় হওয়া অবধি আমার পিতামাতারও একই প্রচেষ্টা ‘ছেলে যেন মানুষের মত মানুষ হয়’। নিম্ন মধ্যবিত্ত চাষী পরিবারে জন্মাবার পরেও আমার পিতামাতা আমার জীবনের অন্যতম আদর্শ এবং প্রেরণা সে কথা আমার এবং পরিবারকে যারা চেনেন, তাদের কাছে অজ্ঞাত নয়।
মাতাপিতার মত জন্মস্থান আর স্বদেশকে সমার্থক মনে করার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। স্বদেশ ব্যাপারটা জন্মস্থানের মত সুনির্দিষ্ট নয়। যে মানুষ যেখানে স্বাধীনভাবে, স্বীয় ভাবাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে মুক্তভাবে নিজের বিশ্বাস, আচার, আচরণ প্রথাকে কাজে লাগিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে নির্দ্বিধায় ও ভয়হীন জীবনযাপনে কোন প্রকার বাঁধার সম্মুখীন না হয়ে কর্মসংস্থানসহ পরিবারের সম্মানকে অক্ষুন্ন রেখে বসবাস করতে পারে সেটাই তার স্বদেশ। নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় সেটাকে আটকে রেখে ছোট করার প্রচেষ্টা গতানুগতিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীটা একবিংশ শতাব্দীতে একই ছাতার নিচে চলে এসেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার কারণে একপ্রান্তের খবর অন্যপ্রান্তে সেকেন্ডের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। কোন কিছু আজ আর অজানা থাকছে না। দেশ ছেড়েও দেশান্তরী হয়ে মানুষ আজ ‘ছড়িয়ে থেকেও জড়িয়ে আছে’। অতএব স্বদেশের ভাবনটাও আজ বিস্তৃতি লাভ করছে। জন্মস্থান, এবং একটা দেশের সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই স্বদেশ নির্ধারিত হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। মুক্তবাজার, অবাধ প্রতিযোগিতা যা বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে সেই সুবাদেও আমরা স্বদেশের সংজ্ঞাতে আগের মত সংজ্ঞায়িত করতে পারছি না। রুটিরুজির প্রশ্নে প্রতিদিন মানুষ আজ ঘরের বাইরে যেতে এবং থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তার জন্মভূমি, স্বদেশ তাকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে যেমন সাহায্য করছে না, তেমনি কর্মসংস্থানের সু-ব্যবস্থা না থাকার কারণে নিজের দেশকে স্বদেশ ভাবার উপলব্ধি তাঁকে ভারাক্রান্ত করছে না।
অনেক অঞ্চলের সীমারেখা, ভূ-প্রকৃতি নানা সূত্রে নিদিষ্ট করে দেয়। নদী, পর্বত, সমুদ্র, বন, মরুভূমি, আবহাওয়া মন্ডল, ইত্যাদি আর সে ক্ষেত্রে প্রকৃতিদত্ত সীমার মধ্যে এক একটি বিশিষ্ট লোকাচার, সমাজ, ভাষা সংস্কৃতি, আচার, আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাদি স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে পারে, কিন্তু দেশ বা রাষ্ট্র দাঁড়ায় ক্ষমতা অর্জন, প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের উপরে। গোড়াতে রাষ্ট্র তার নিজস্ব সার্বভৌম কাঠামোতে আবদ্ধ থাকলেও একসময় সে বাড়তে চায় এবং বাড়াতে চায়, তখনই শুরু হয় সাধারণ নাগরিকের দুর্বিষহ জীবন আর প্রতিবেশী দেশের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিভীষিকাকে বাড়িয়ে তুলে ব্যক্তির বিবেক বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করতে চায়। সে ক্ষেত্রে দেশের ভূগোলের সংগে স্বদেশের সীমানাও বেড়ে চলে। যুদ্ধ বিগ্রহ, দেশ দখল, আগ্রাসন নিজের প্রভুত্ব জাহির করা বিশেষয়তঃ অর্থনীতির পরিপক্কতায় যা নির্মোহভাবে ধনী দেশগুলো গরীব দেশগুলোর উপরে আজও জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসতে চাইছে। সেখানে কাজ করে অর্থনীতির কুটচাল, তাতে যদি কেউ দেশ ছেড়ে দেশান্তরী হয় তাতে স্বদেশের সংজ্ঞা পাল্টে গেলেও কিছু বলার থাকে না। যার আজকাল অতি আদুরে নাম শরণার্থী কিংবা আশ্রয় প্রার্থী, রাজনীতির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে সারা পৃথিবী আজ এ বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন।
আমার স্বদেশে রোহিঙ্গারা উদ্বাস্ত, আবার দীর্ঘদিনের ক্ষতে প্রলোপ দেওয়া ভারতে আশ্রয় প্রার্থী শরণার্থীদের সে ক্ষত পুনরায় জ্বালামুখ নিয়ে ফিরে আসছে। রাজনীতির মারপ্যাচে সিরিয়া, ইয়েমেনের মানুষও আজ ভিটেমাটি ছেড়ে পরবাসী হয়ে স্বদেশ ছাড়া। যেখানে বাস করছে আহার নিদ্রাসহ জীবনের নিরাপত্তার জন্য বিদেশও আজ তার কাছে স্বদেশ। অতএব স্বদেশের সংজ্ঞার যে রূপান্তর ঘটছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক রাষ্ট্র যদি অন্যায়ভাবে তার দেশের জনগণের উপর আক্রমণ চালিয়ে (সেটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হোক) ভিটেমাটি ছাড়া করে সেই দেশকে স্বদেশ বলে ভাবা নিশ্চয়ই ভুল হবে।

অবাধ, মুক্ত পৃথিবীতে মানুষ অবাধে বিচরণ করতে না পারার কারণ ‘সার্বভৌমত্ব’ এবং প্রত্যেক দেশের আছে তার নিজস্ব নিয়ম কানুন। তাছাড়া বহিঃর্গমণের নিয়ম কানুন, পাসর্পোট, ভিসা ইত্যাদি তো আছেই। কিন্তু একথা ঠিক যেখানে মানুষ নিজেকেই খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার সব উপকরণ যদি অনায়সে সে ভোগ করতে পারে তাহলে তার কাছে সেটাই তার স্বদেশ। পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়, জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে দেশান্তরী হয়ে সে সব দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছে বৈধ হোক অবৈধ হোক সেটা আইনগত ব্যাপার। তবে জীবন ধারনের জন্য এই যে যাপিত ব্যবস্থার সুযোগ যে মাটিতে, যে দেশে সম্ভব হলো তার কাছে তো ওটাই তার স্বদেশ। কোন বিশেষ মাটিতে কারো যে শিঁকড় গেড়ে বসে না আধুনিক যুগে তা প্রমাণিত। স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানার দাবী নিয়ে স্বদেশের প্রতি দুর্বলতা আজ ক্রমহ্রাসমান, কারণ চিন্তার জগতে পরিবর্তন ঘটিয়ে লেখাপড়ায় জ্ঞান বিজ্ঞানে তথা ধী শক্তির বিকাশে বস্তু সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি মারামারির চেয়ে তা দেশে বিদেশে তথা স্থানান্তরিত হয়ে দান করেও যে বেঁচে থাকা যায় তা আজ প্রমাণিত। শুধু তাই না, শারীরিক পরিশ্রমেও বিদেশে টিকে থাকার যে প্রবণতা যাকে আমরা অদক্ষ শ্রমিকের ‘তকমাতে’ বিদেশে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখি, তাদের কাছেও স্বদেশ বা নিজদেশ নামক শব্দটির ব্যাখা নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে।
মানুষের চেতনায় বিশ্বজগৎ আজ কাছাকাছি চলে এসেছে। একই জায়গায় জন্মাবার কারণে সেখানেই সে স্বদেশ ভেবে উন্নত জীবন বা জীবিকার জন্য দুর দেশে যাবার বাসনাকে সে সংকুচিত করে ঘরকুনো হয়ে বসে থাকবে এটা ভাববার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। দেশে দেশে ঘর পটু যে বেড়ায়, সেটাকে আপন করার প্রচেষ্টা আজ সর্বজন স্বীকৃত। অতএব স্বদেশ, জন্মভূমি, মাতৃভূমি এসব আজ পুরানো ধ্যান ধারনায় পর্য্যবসিত হতে চলছে। ছোট বেলায় স্মৃতিকে মানুষ মনে রেখে জন্মস্থানের বাল্যকালের প্রীতিময়, সৌহার্দ্যময় জীবনটাকে স্মৃতির পাতা খটুড়ে উপভোগ করতে পারলেও বর্তমানের ভোগ বিলাসী জীবনের ক্ষুধা মিটাতে তাকে ভিন্ন দেশে ভিন্ন পরিবেশে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। হয়তো আগামীতে আরো বেশী হবে এই লড়াইটা। মানুষের সম্পদ বস্তুরাজির ভিতরে সীমাবদ্ধ নয়, তাই অক্ষয় মানব সম্পদের সংগে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের যেখানে শ্রম সম্পদের ঘাটতি রয়েছে সেখানে পরিচয় ঘটিয়ে তাদের সদ্ব্যবহারের মধ্যে বসবাসের সুযোগ বিদেশকেও স্বদেশ ভাবতে শেখাচ্ছে। এই সম্ভাবনার বাস্তবায়নের ভিতর দিয়েই সামনের শতক নতুন এক বিশ্বব্যাপী রেনেসাঁস ঘটাতে পারে। এবার এই সব সম্ভাবনা থেকেই স্বজন প্রসংগে আসি।
ব্যক্তির পোষণ এবং বিকাশের জন্য স্বজন দরকার। পরম্পরা অনুসারে এই স্বজন ছিল মাতাপিতার সূত্রে পাওয়া ভাই বোন, জ্ঞাতিগোষ্ঠী, পরে বিবাহসূত্রে কুটুম্বরা, প্রতিবেশী, সহপাঠী, সহকর্মীরা বৃত্তের পরিধি বাড়ায়। আধুনিককালে এইসব সম্পর্কের ভিতরে উষ্ণতা দুর্লভ। সম্পর্ক আছে- কিন্তু তাতে হƒদয়ের অনুভূতি ক্ষীণ। কখনো কখনো নিজেকে মনে হয় জগত থেকে বিচ্ছিন্ন কোন নতুন দ্বীপের বাসিন্দা। একই পিতামাতার সন্তান সবচেয়ে আপনজন, আবার সবচেয়ে শক্রও বটে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে শক্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একসময়ে স্বজাতি স্বজন আপনজন ছেড়ে সে দেশান্তরী তথা স্থানান্তরী হতে বাধ্য হয়। তার কাছে তখন স্থানান্তর হওয়ার দরুণ কর্মস্থলের মানুষেরাই বেশী আপন হয়ে ওঠে। প্রয়োজনে জন্মস্থানে স্বজন ছেড়ে নতুন বসতির জন্য কর্মস্থলের মানুষগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই মানুষগুলোয় আপদে বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ায়। অথচ রক্তের সম্পর্ক নিয়ে আত্মীয়তায় দাবিদারেরা বিপদের সময় দাঁড়িয়ে মজা দেখে আর ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। আপন পর বোঝা তখন দায় হয়ে পড়ে। মানুষের ইতিহাসে ব্যক্তির চেতনা ছোট বৃত্ত থেকে বৃহত্তর বৃত্তে প্রসারিত হচ্ছে। আমাদের স্বজন শুধু আমাদের ধারে কাছে বা মাতৃভূমিতে সীমাবদ্ধ নয় এবং কালের হিসাবে স্বকাল থেকে সভ্যতার আদিকাল পর্যন্ত সর্বকালে সম্ভাব্য স্বজন বিদ্যমান। এই স্বজনদের আবিষ্কার করতে হয়। তাদের সংগে হৃদ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য গভীর অনুরাগ এবং যত্ন লাগে। তারা তাদের হƒদয় মেলে ধরেন যখন তাদের বন্ধু হবার যোগ্য হই।
জন্মসূত্রে পাওয়া আত্মীয়স্বজনের, প্রতিবেশীদেরও সংগে আমার নিজের মনের খুব একটা মিল হয়নি, কিন্তু ছাত্র জীবনে লজিং থেকে পড়তে যেয়ে আভাস পাই এই সংকীর্ণ বৃত্তের বাইরেও বড় জগৎ আছে। মুক্ত দৃষ্টি এবং আগ্রহ নিয়ে খোঁজ করলে সেই বিরাট জগতে মনের মত স্বজন মেলে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যারা মনস্বী, তারাও বন্ধু আর স্বজনের জন্যে উদগ্রীব থাকে। আজ ফেসবুকের, টুইটারের সৌজন্যে দেশ বিদেশের কতজনই যে আমার আপনজন তথা, স্বজন হয়েছে মনে হয় তারা আমার পাশে থাকলে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত আপনজনদের থেকেই আমি বেশী খুশী থাকতাম। এর অন্যতম কারণ চিন্তা ও চেতনায় সংগে তারা আমাকে বোঝে আমিও তাদের বুঝি। তবে এই কথা ঠিক বৈশ্বিক আত্মীয়তা অর্জন আজও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের অনায়ত্ব। নৈর্ব্যক্তিকভাবে আধুনিক বিশ্ব তাদের জীবনকে অনেকটাই প্রভাবিত করছে। কিন্তু বিশ্বের সংগে স্বাধীন সম্পর্ক রচনা তাদের একেবারেই সাধ্যায়ত্ত নয়, এর বড় কারণ শিক্ষাহীনতা ও দারিদ্র্য। শিক্ষাহীনতা বলতে যে শিক্ষার তাগিদ মানুষকে বহিঃর্মুখী করে আরও জ্ঞানার্জনের চাহিদা মেটানোর তাগাদা দেয় সেটার অভাব আমাদের মধ্যে বিদ্যমান।
একটা কেরানীর চাকরী পেলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নির্দিষ্ট এলাকা ও পারিপার্শ্বিকের মধ্যেই জীবন জীবিকায় যারা অভ্যস্ত তাদের কাছে স্বজনের সংজ্ঞা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। আমার যারা স্বনির্বাচিত স্বজন তাদের সৌহার্দ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয়েছিল আগ্রহ উদ্যস জ্ঞানর্চ্চাকে জীবনে পূর্ণতা দেওয়া- নিজেকে তাদের সংগে মিত্রতার যোগ্য করবার অনুশীলন। আমি বহুদেশে ঘুরেছি, বুঝেছি স্থানের দিক থেকে যেমন কালের দিক থেকেও তেমনি সম্ভাব্য স্বজনেরা আমাদের জন্য প্রতীক্ষমান। সে ক্ষেত্রে ভাষা এখানে একটা অন্যতম উপাদান। যদি বাংলা ভাষা ছাড়াও অন্য ভাষার বিশেষত: ইংরেজীতে ভালো দখল থাকে তাহলে বিশ্ব বন্ধু তথা আপনত্ব সৃষ্টিতে কাউকে পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। সমমনা, সমচিন্তা সম্পন্ন মুক্ত বুদ্ধির মানুষ অপেক্ষা করেই আছে তারা স্বজন হবার জন্য। স্মরণ রাখা সংগত যে সংসারে আমরা নির্বান্ধব নই। খোলা মন নিয়ে খোঁজ করলে ক্রমে অনেক স্বজনের সন্ধান মিলবে যারা যেমন অতীতে তেমনি বর্তমানেও অপেক্ষমান। যেমনআপন অঞ্চলে এবং ভাষার সীমা অতিক্রম করে হলেও তাঁরা বিদ্যমান। তারা মিতালীর জন্যে অপেক্ষা করে আছেন তাদের বাড়ানো হাত স্পর্শ করা আজ অনেকটাই আমাদের উপর নির্ভর করছে।
(লেখক, কুয়েত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা)