হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ২২ জুন ২০২৪, শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী (Platinum Jubilee) ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মাহবুবুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ড. প্রদীপ কর। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন- যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিনেট সদস্য নিজাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাছিব মামুন, সাংগাঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতে পুষ্প স্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জাতীয় ও দলীয় থ্রীম সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার কাজ শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান ঢাকা থেকে টেলিফোনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বিগত পঁচাত্তর বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্দোলন, সংগ্রাম আত্মত্যাগ এবং অর্জনের গৌরব গাঁথা ইতিহাসের কথা তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। অতি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর সাক্ষাতের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন যে- সিদ্দিকুর রহমান মাননীয় নেত্রীর দেওয়া কমিটিকে ভেঙ্গে শূণ্যস্থান পূরনের নামে যে পদ বাণিজ্য শুরু করেছেন মাননীয় নেত্রী এরজন্য খুবই বিরক্ত, তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি করবেন বলে সবাইকে জানিয়ে দেন।
বিশেষ অতিথি মাহবুবুর রহমান এবং ড. প্রদীপ কর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন। ড. প্রদীপ তাঁর বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমানের নানা অনিমতান্ত্রিক কার্যক্রম তুলে ধরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর মেকাবেলা করার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক নিজাম চৌধুরী বিগত ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন যে- আওয়ামী লীগ মানে উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ মানে এগিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগ মানে আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হুসাইন এবং শওকত আকবর রিচি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মো: বখতিয়ার আলী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এম এ করিম জাহাঙ্গীর, ত্রাণ ও পূনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, নির্বাহী সদস্য কায়কোবাদ খান ও খুরশেদ খন্দকার, নিউইয়র্ক স্টেইট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম এবং সৈয়দ আতিকুর রহমান, কানেক্টিকাট স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি জিহাদুল হক জেহাদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা কফিল চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহ সেলিম, যুবলীগ নেতা শেখ জামাল হুসেন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামল চন্দ, শেখ রাসেল স্মৃতি জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি গোলাম খাঁন লিপ্টন, কাজি এলিন, তোফায়েল হোসেন, আবুল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রোমানা আকতার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল ওয়াহাব জোয়ারদার, কার্যকরী কমিটির সদস্য রাকিব হাসান, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম ইকবাল, আব্দুল বাছির, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেড এ জয় এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ হাসান, ইশরাত হোসেন হৃদয় প্রমূখ।
সভার শেষে ১২.০১ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম জন্মদিনের কেক কেটে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। আলোচনা সভার শুরুতে মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২, ৬৪ এর ৬ দফা, এগারো দফা শিক্ষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ই আগস্ট, ২১শে আগস্ট, ৩রা নভেম্বরের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং স্বৈরাচার বিরোধী এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মত্যাগী বীর এবং সম্ভ্রমহারা ২ লক্ষাধীক মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।