প্রবাস মেলা ডেস্ক: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার বাংলাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এর হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকাটির সম্মানিত উপদেষ্টা টিভি উপস্থাপক ও আবৃত্তিকার মামুন ইমতিয়াজ। তারা দু’জনেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত শিশু অধিকার সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংগঠন Distressed Children & Infants International (DCI) এর আসন্ন কনসার্ট উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় অংশ নেন। উল্লেখ্য সাবিনা ইয়াসমিন Distressed Children & Infants International (DCI) গুডউইল এম্বাসেডর এবং মামুন ইমতিয়াজ মিডিয়া এডভাইজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশি গায়িকা। বিশ্বব্যাপী তার খ্যাতি। দেশাত্মবোধক গান থেকে প্রায় চার দশক ধরে বাংলা গানের বিভিন্ন ধারার নানান (উচ্চাঙ্গ ধ্রুপদ, লোকসঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্র) মিশ্র আঙ্গিকের সুরে শিল্পীর অবাধ যাতায়াতে সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেন। ছোটদের সংগঠন খেলাঘরের সদস্য হিসেবে রেডিও ও টেলিভিশনে গান গান নিয়মিত। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানটির মাধ্যমে তিনি প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্ন প্রকাশ করেন।তবে ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম গান করেন তিনি শিশু শিল্পী হিসেবে।

জন্ম আমার ধন্য হলো, একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা, সব ক’টা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাড়িয়া দে– এ ধরনের অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন সংগীতে অবদানের জন্য পুরষ্কৃত হয়েছেন অনেক বার। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মোট ১০টি, বাচসাস পুরস্কার মোট ৬টি, বিএফজেএ পুরস্কার মোট ১৯৯১ সালে, উত্তম কুমার পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে পান ‘বেস্ট সিঙ্গার’ পুরস্কার। গান গাওয়ার জন্য সাবিনা ইয়াসমিন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন যেমন- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নরওয়ে, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, বাহরাইন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ভাষায় অনেক গান গেয়েছেন। উল্লেখ্য সাবিনা ইয়াসমিন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘উল্কা’ নামের সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভুবনে বিচরন করছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র রুনা লায়লা ছাড়া তার সমকক্ষ হয়ে আর কেউ বোধ হয় এত লম্বা সময় ধরে আধিপত্য বজায় রেখে চলতে পারেননি। গত কয়েক দশকে তিনি সর্বমোট কত হাজার গান গেয়েছেন তার সঠিক হিসেব হয়তো সাবিনা নিজেও দিতে পারবেন না, তবে মরমী শিল্পী সেই আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে একালের কোন উঠতি গায়কের সাথেও অবিরাম গেয়ে চলেছেন একের পর এক গান। সুযোগ পেয়েছেন উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার আর. ডি. বর্মণের সুরে গান গাওয়ার, বিখ্যাত কিশোর কুমারের ও মান্না দের সাথেও ডুয়েট গান গাওয়ার। ১৯৮৫ সালে গানের জন্য ভারত থেকে ‘ডক্টরেট” ও লাভ করেছেন। সাধারণত চলচ্চিত্রের গানেই তিনি বেশী কন্ঠ দিয়েছেন। চলচ্চিত্রে প্রায় ১২ হাজারের মতো গান করছেন তিনি। ক্যান্সারজয়ী এই শিল্পী এখনো সমানতালে শ্রোতাদের মনে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।