প্রবাস মেলা ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসে দেড় হাজারেরও বেশি জলবায়ুকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। হেগের একটি প্রধান মোটরওয়ে অবরোধ করার পর তাদের আটক করা হয়। খবর বিবিসির।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ মে ২০২৩, শনিবার জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন জলবায়ুকর্মীরা। সেখান থেকে দেড় হাজারেরও বেশি কর্মীকে আটক করা হয়। অবশ্য বেশির ভাগ কর্মীকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন নামে একটি সংগঠন এ প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে বহু জলবায়ুকর্মী যোগ দেন। বিক্ষোভ চলাকালীন তারা জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধের দাবিতে দ্য হেগের এ১২ মহাসড়কে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য জলকামান থেকে পানিবর্ষণ শুরু করলেও অনেকেই রেইনকোট এবং সাঁতারের পোশাক পরে প্রস্তুত হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বেশির ভাগকে ছেড়ে দেয়া হলেও পুলিশ বলছে, ৪০ জনকে বিচারের আওতায় আনা হবে।
শনিবারের প্রতিবাদে যারা অংশ নেয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ডাচ সেলিব্রেটিও ছিলেন। তাদের মধ্যে অভিনেত্রী ক্যারিস ভ্যান হাউটেনও ছিলেন। ডাচ বার্তা সংস্থা এএনপি জানিয়েছে, বিক্ষোভ থেকে অভিনেত্রী ক্যারিস ভ্যান হাউটেনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। অবরোধ শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেছে এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন। কিন্তু পুলিশ বলছে, তারা কর্মীদের চলে যেতে বলেছিল এবং জলকামান ব্যবহার করার আগে তাদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে অবরোধ থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ১ হাজার ৫৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় নিউজ সাইট ডি টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের অনেককে সড়ক থেকে উঠিয়ে বাসে তুলে নেয়া হয়।
ডাচ প্রসিকিউশন সার্ভিস বলেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই বিচার করা হবে না। কারণ, এটি ‘ছোট অপরাধ’ এবং গ্রেফতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল অবরোধের অবসান করা। তবে ভাঙচুর ও গ্রেফতার আটকাতে আঘাত-সহিংসতায় অংশ নেয়া ৪০ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই অবরোধ তুলে দিয়ে রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেয় পুলিশ। এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন বলছে, এদিন কমপক্ষে ছয় হাজার বিক্ষোভকারী দ্য হেগের এ১২ মহাসড়কের পাশে বিক্ষোভে অংশ নেন। এ নিয়ে সপ্তমবার এই সংগঠনের প্রতিবাদকারীরা এ১২ মহাসড়ক অবরুদ্ধ করল। অবশ্য শহরের মেয়রের আনা নতুন নিয়মে এই রাস্তায় যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করা নিষিদ্ধ।