জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের জেলা ও থানা পর্যায়ের সাবেক ছাত্র ও যুব নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক নির্বাহী ডেপুটি মেয়র ও পাঁচ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আ ম অহিদ আহমদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোলাপগঞ্জ যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অহিদ আহমদ বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরামর্শক কমিটির বেতনভুক্ত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লন্ডনের ফরেস্ট গেটের আয়ান্স রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ সভায় জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সহযোগিতা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা যুবদলের নেতা ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন টিপু। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মনজুর আহমদ শাহনাজ।
অহিদ আহমদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জুলুম-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ একটি পতিত সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ খুনি হাসিনার পতনের পর অনেক নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি। এই সংকটকালে আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মাটি ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন, তাদের সহযোগিতায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সভায় বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির ভূমিকা এবং আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বকত চৌধুরী ছাদেক, বার্কিং ও ডেগেনহাম কাউন্সিলের সাবেক মেয়র ফারুক আহমদ, বিয়ানীবাজার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম, লন্ডন মহানগর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম, কানাডা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
অহিদ আহমদ যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশিদের জন্য গর্বিত। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”
সভার শেষে ডিনারের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমাজসেবক ও সাংবাদিকরা।