জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: ‘শব্দকল্প’ বাচিক সংস্থার উদ্যোগে সম্প্রতি কোলকাতার ঐহিতাসিক স্টার থিয়েটারের নটী বিনোদিনী প্রদর্শনী কক্ষে একযোগে সাড়ম্বরে উদ্বোধন হলো এক অনন্য চিত্রপ্রদর্শনী ‘ছোটতে বড়তে মিলে’ এবং সাতদিন ব্যাপী শ্রুতিনাট্যোৎসবের- যার নাম ‘শ্রুতিবাহার’। চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রকর শ্রী ওয়াসিম কাপুর। চৌদ্দজন নবীন ও প্রবীন প্রতিভার নান্দনিক শিল্পকর্ম ছিল এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। সর্বকনিষ্ঠ চিত্রশিল্পী শ্রী ঈশান চৌধুরী ও বর্ষীয়ান শিল্পী শ্রী নন্দলাল বসুর সুযোগ্য ছাত্র শ্রী শিশির চক্রবর্তীর শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রী ওয়াসিম কাপুর।

স্বশিক্ষিত চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্ম আধুনিক, ব্যতিক্রমী ও আন্তর্জাতিক মানের একথা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন শ্রী ওয়াসিম কাপুর। এরসাথেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সাত দিনব্যাপী শ্রুতিনাট্যোৎসবের শুভ সূচনা করেন বাচিক ও শিল্প জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শ্রী ওয়াসিম কাপুর, শ্রী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য, শ্রী শুভব্রত রায় চৌধুরী, শ্রী জীব সাহাদাত (চলচ্চিত্র নির্মাতা- ঢাকা, বাংলাদেশ), শ্রী অতনু পাল, শ্রী শুভাশীষ ঘোষ ঠাকুর, শ্রী আলোক রঞ্জন চৌধুরী প্রমুখ। প্রথমবার শ্রুতিনাট্যোৎসবের এই অভিনব আয়োজন সম্পর্কে সকলেই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। সাতদিনের এই নজিরবিহীন আয়োজনের অন্যান্য দিনগুলিতেও উপস্থিত ছিলেন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা। ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি মন্দাক্রান্তা সেন, প্রবীন নাট্যকার শ্রী নীরূপ মিত্র, নাট্যকার শ্রী ধনঞ্জয় ঘোষাল, নাট্যকার ও নির্দেশক শ্রী মৈনাল সেনগুপ্ত, নাট্যকার- নির্দেশক ও অধ্যাপক শ্রী কুন্তল মুখোপাধ্যায়, নাট্যকার ও বাচিক ব্যক্তিত্ব শ্রী দেবেশ ঠাকুর, কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, কবি প্রসূন ভৌমিক, কবি সব্যসাচী দেব, বাচিক শিল্পী শ্রীমতী স্বপ্না দে (দূরদর্শন), আবৃত্তিকার কাকলী রায়, আবৃত্তিকার সাদিকুল করিম, বাচিকশিল্পী দীপঙ্কর সেন (আকাশবাণী), বাচিকশিল্পী শর্মিষ্ঠা দত্ত রায়, লেখক ও সাংবাদিক শ্রী অমিতাভ সিরাজ, আবৃত্তিকার সেলিম দুরানী বিশ্বাস (সব্যসাচী পুরষ্কার প্রাপ্ত) সহ আরও অনেক গুণীজন। পঞ্চাশটি দলের সত্তরটি নাটক সাতদিন ধরে একটি মঞ্চে উপস্থাপিত হয়, সাথে গুণীজন সংবর্ধনা। সকলেই ‘শব্দকল্প’র প্রতিষ্ঠাতা সোমালি চৌধুরী ও প্রদীপ ভট্টাচার্যকে এই দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা ও তার স্বার্থক রূপায়ণের জন্য সাধুবাদ জানান। কোলকাতার পাশ্ববর্তী জেলাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে বারংবার বাচিক সংস্কৃতি চর্চার এই প্রচেষ্টার জন্য সোমালি চৌধুরীর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। আগামী দিনে ‘শব্দকল্প’ আরও বড় বড় ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান নিয়ে আসবেন একথাও জানা গেল। এই অনুষ্ঠানে নাট্যকার ও নির্দেশক শ্রী শুভাশীষ ঘোষ ঠাকুরের শ্রতিনাটকের প্রথম বই ‘শ্রুতিজাতক’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।